ফুঁসছে খুলনাবাসী, জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

খুলনায় জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে শহরের মানুষ। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ অন্য চার পুলিশ সদস্যের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে শহরবাসী।

পিকচার প্যালেস মোড়ে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রেলওয়ে পুলিশ রেলের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে একজন নারীকে থানায় আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে। সেই ধর্ষণে যখন স্বয়ং ওসি অংশ নেয় তখন বিপদগ্রস্ত মানুষ কোথায় যাবে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের অবিলম্বে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। কোনোভাবে যেন অপরাধীরা এই অভিযোগটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। তারা যেন কোনোভাবে পালিয়ে না যেতে পারে সে জন্য প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম। বক্তৃতা করেন জাসদ নেতা মো. খালিদ হোসেন, মহানগর সিপিবির সভাপতি এইচএম শাহাদাত্, নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলু, নারী নেত্রী সিলভী হারুণ, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরে গভীর রাতে জিআরপি থানার ওসি উছমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন। পরদিন তাকে ৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ একটি মামলায় ‘গ্রেফতার’ দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। ৪ আগস্ট জামিন শুনানিকালে গণধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ঐ নারী।