মাগুরার শ্রীপুরে ডিবি পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। তার নাম আমিরুল মোল্লা (৪৫)। গতকাল বুধবার সকালে কুমার নদী থেকে তার মৃতেদহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের এক চৌকস ডুবুরী দল। নিহত ব্যক্তি শ্রীকোল ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং স্থানীয় সামছেল আলম মোল্লার পুত্র।
এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর নাসিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার হাটশ্রীকোল বাজারে আসে। এ সময় শ্রীকোল ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম (৪৫) ওই বাজারের মদন নামক এক চায়ের দোকানে বসেছিলো। বাজারে হঠাৎ ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে । তার দৌড়ানো দেখে সন্দেহ হলে পুলিশও তার পিছু ধাওয়া করে । পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আমিরুল জীবন ভয়ে বাজারের পার্শ্ববর্তী কুমার নদীতে ঝাপ দেয় ।
পুলিশও তাকে ধরতে এক পর্যায়ে নদীর পানিতে নেমে পড়ে। কিন্ত আমিরুল নদীর গভীরে চলে গেলেও পুলিশ তার পিছু ছাড়েনি। নৌকাযোগে আবার তাকে ধরার জন্য ধাওয়া করে। পুলিশ তাকে ধরতে না পারলেও আমিরুল শেষ পর্যন্ত নদীর পানিতে ডুবে যায়। এরপর লোকজন আমিরুলকে দেখতে না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং ডিবি পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ হামলায় মাগুরা ডিবি পুলিশের এসআই ওলিয়ার রহমান মারাত্মক আহত হন।
নদী থেকে লাশ উদ্ধারের জন্য ডুবুরী দলের প্রস্তুতির সময়। ছবি: ইত্তেফাক
পরে শ্রীপুর থানা এবং মাগুরা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে ওইদিন পরিবার ও এলাকার লোকজন আমিরুলকে উদ্ধার করতে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি করে ব্যর্থ হয়। সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে খুলনার ডুবুরী দলকে সংবাদ দেয়। খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্যের একটি চৌকস ডুবুরী দল মাগুরার স্টেশন অফিসার সুমন আলীর নেতৃত্বে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নদীতে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুলের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
নিহতের বড় ভাই বাহারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ডিবি পুলিশের দারোগা ওলিয়ার রহমান এবং তার সহযোগীরা গ্রাম্য প্রতিপক্ষ বাহারুল মেম্বরের সঙ্গে মোটা অংকের টাকার চুক্তিতে তার ভাই আমিরুলকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আত্মরক্ষার জন্য নদীর পানিতে ঝাপ দিলেও ডিবি পুলিশ তার ভাইকে কোন ক্ষমা করেনি বরং নদীর গভীরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ডুবিয়ে দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: আশাশুনিতে বিরল রোগে আক্রান্ত পিন্টু গাজী বাঁচতে চায়
মাগুরার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, ‘ঘটনাটি সত্যিই খুব মর্মান্তিক। তবে যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু