জয়পুরহাটে ডিভোর্সের পর ধানক্ষেতে মিলল গৃহবধূর মরদেহ, আটক সাবেক স্বামী

জয়পুরহাটের এক নারীকে হত্যার পর ধানখেতে মরদেহ পুঁতে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা অর্ধপোতা অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলায় তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের সাঁতার গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন আটিদাশড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশুরা (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. মোফাজ্জল হোসেন মফার ছেলে বাবলু মিয়ার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে বাবলু তার সাবেক স্ত্রী আশুরাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। দিনভর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় তাদের। স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের এলাকাতেও একাধিক ব্যক্তি তাদের একসঙ্গে দেখেছেন বলে জানান। তবে সন্ধ্যার পর থেকে আশুরার কোনো খোঁজ না পেয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়। রাতের দিকে সাঁতার গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন আটিদাশড়া এলাকায় জনৈক সিরাজুল ইসলামের জমির ধানক্ষেতে একটি মরদেহ অর্ধেক মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর তারা পুলিশকে খবর দেন। রাত ১০টার দিকে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহালে মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি স্যান্ডেল, গেঞ্জি ও কাদামাখা লুঙ্গি জব্দ করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবলু মিয়ার একাধিক স্ত্রী ছিল এবং আশুরা ছিলেন তার তৃতীয় স্ত্রী। তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে আগে তালাক হয়। তালাকের পর আশুরা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌতুকের একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

ঘটনার পর থেকেই বাবলু পলাতক থাকলেও শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে তাকে আটক করা হয়েছে। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবলুর অপর দুই স্ত্রীকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ  ।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকলেছুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক ভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্বামী বাবলুকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি ।