শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জয়পুরহাটে সড়ক অবরোধ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৭

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দ্বিতীয় দিনের মতো জয়পুরহাটে সড়ক অবরোধ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেছেন তারা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এতে অংশ নেয় জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী। পরে তারা শহরের ব্যস্ততম বাটারমোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়ে যায়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় টানা ভারি বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেক পরীক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষার কিছু প্রশ্নপত্র নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কিছু বক্তব্য তাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করেন তারা। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন নিয়ে অসন্তোষ এবং শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা চাই’, ‘দুর্যোগে পরীক্ষা নয়’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে আড়াইটার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জয়পুরহাট সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন। প্রশাসন ও পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এরপর তারা স্বেচ্ছায় অবরোধ তুলে নেন। বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ইত্তেফাক/এপি