রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ ছোট মসজিদ এলাকায় সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ফারদিন ইসমা আশারিয়া রাব্বি হত্যার বিষয়ে এখনও অন্ধকারে পুলিশ। এ ঘটনায় নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের ছোট বোন মানসুরা পারভিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিন রাতে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সামিউল ইসলাম রবিন নামের স্থানীয় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিন ওই এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, রাব্বি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণকে সামনে রেখে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। রাব্বি টার্গেট কিলিংয়ের শিকার কি না? সেটাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, খুব কম সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে আসবে।
এদিকে আরএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুছ বলেন, সম্ভাব্য সকল কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পর রাব্বির ট্রাভেল ব্যাগ, মানিব্যাগ এমন কি মোবাইল ফোনটিও নেয়নি হত্যাকারীরা। এগুলো ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। যা পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।
অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইফতেখার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে এই খুনে জড়িত সন্দেহে নগরীর হেতেমখা এলাকা থেকে সামিউল ইসলাম রবিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে।’
আরও পড়ুন: মাদ্রাসার কালেকশনের দশ টাকা খাওয়ায় ক্ষুধার্ত শিশু শিক্ষার্থীকে বেদম প্রহার
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোরে নগরীর হেতেমখাঁ ছোট মসজিদের উত্তরে সড়কের ওপর কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজশাহী সরকারী সিটি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র ফারদিন ইসমা আশারিয়া রাব্বিকে। ঈদের ছুটিতে তীতুমীর ট্রেনে বাড়ি ফেরার জন্য ফজরের আজানের পরপরই রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যাচ্ছিলো রাব্বি। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে আর বাড়িতে ঈদ করতে দিলো না।
ইত্তেফাক/নূহু