ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীর সব মানবাধিকার নিশ্চিত করে মানবিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন নারী নেত্রীবৃন্দ। তারা বলেছেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে অঞ্চলভিত্তিক এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সেল গঠনের সুপারিশ করেন তারা। গতকাল ধানমন্ডির উইমেনস ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউ.ভি.এ) মিলনায়তনে ‘আদিবাসী নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নানা বিভাজনের কারণে নারীদের বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। সে কথা আমাদের ক্লান্তিহীনভাবে বলে যেতে হবে। সেই সঙ্গে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে কেন এগিয়ে যাচ্ছে না তার পিছনের কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। অথচ এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সহিংসতা অনেকটাই কমত। তিনি সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ধর্ষণ হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিকতার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। যুদ্ধে ধর্ষণকে একটি যুদ্ধকৌশল হিসেবে ধরা হয়। আনপিপলিং বা সংখ্যাশূন্য করবার জায়গা সমতলে শুরু হয়েছে বিশেষ করে বরিশালে রাখাইদের জনসংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মানুষের ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। তাই যতদিন বেঁচে আছি আমাদের কথা বলতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসী সমাজে ধর্ষণ বলে কোনো শব্দ নেই। আদিবাসী সমাজের সমস্যাকে শুধু চোখ দিয়ে দেখলে হবে না, তাদের হূদয় দিয়ে দেখতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রকে তার সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই আমরা মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত সংবিধানে সব ধর্মের, বর্ণের মানুষের সমঅধিকারের কথা বলা হলেও এখনো নারীদের সমঅধিকার নিশ্চিত হয়নি। আদিবাসী নারীরা আরো বেশি নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার। তাছাড়া বিচারহীনতা সংস্কৃতির কারণে আদিবাসী নারী ও শিশুদের ওপরে আরো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভার উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নেটজ বাংলাদেশের প্রতিনিধি সারা খাতুন, নারীপক্ষের সৈয়দা সালমা পারভিন, বিসিএইচআরডির শাপলা স্বর্ণা রুরাম, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সোহেল চন্দ্র হাজং ও ছাত্র প্রতিনিধি সতেজ চাকমা। আরো বক্তব্য রাখেন আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, নারী নেটওয়ার্কের সদস্য্য তুলি লাবণ্য ম্রং। চঞ্চনা চাকমার সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা।