১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
উপলক্ষ্যে সেমিনার
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আজ ১০৬ বছর পূর্ণ করল। আজকের এই জাদুঘরের প্রাণপুরুষ, যার অবদান অনস্বীকার্য তিনি হলেন নলিনীকান্ত ভট্টশালী। জাদুঘরে লক্ষ্য নিদর্শনের মধ্যে মাত্র অল্প কিছু নিদর্শনই প্রদর্শন করা হয়েছে। বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আরো বেশি নিদর্শন প্রদর্শন করা সম্ভব হবে।
গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘জাদুঘর সভ্যতার স্মৃতিঘর’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়া, জাদুঘরের ই-টিকিটিং ব্যবস্থার উদ্বোধন এবং জাদুঘরের নিয়মিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা জাদুঘর সমাচারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের সাবেক পরিচালক ড. এনামুল হক এবং বিশিষ্ট ফোকলোরবিদ অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ। স্বাগত ভাষণ দেন জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. আবদুল মজিদ।
মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, জাদুঘর একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সভ্যতার ধারক ও বাহক। এটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।
অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, অল্প কিছু নিদর্শন নিয়ে ব্রিটিশদের সচিবালয়ের ছোটো একটি ঘরে ঢাকা জাদুঘর নামে যে প্রতিষ্ঠানটি পথচলা শুরু করেছিল আজ সেই প্রতিষ্ঠানটিই উপমহাদেশের অন্যতম একটি জাদুঘর। যা আমাদের গর্বের ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।
ড. এনামুল হক বলেন, জাদুঘরকে সভ্যতার স্মৃতিঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব আমাদের। আমাদেরকে চারটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো হলো—সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রকাশনা। একটি জাদুঘর যত বেশি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রকাশনায় উন্নত হবে, তত বেশি সমৃদ্ধ হবে সেই জাদুঘর।
অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, জাদুঘরকে জনগণের বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্ময়কর নিদর্শন দেখতে আমরা জাদুঘরে আসি এবং দেখার পর যদি মনের ভেতরে বার বার অনুরণিত হয়, তাহলেই জাদুঘরের উদ্দেশ সার্থক হবে বলে আমি মনে করি।