জমে উঠেছে লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর হাট

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

ঈদুল-আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মাঝে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। প্রতিদিন জেলার স্থানীয় পশুর হাটগুলোতে প্রচুর গরু-ছাগল উঠতে দেখা গেছে।  বিক্রেতারা জানান, এবার কোরবানির জন্য ভারত, মিয়ানমার, ভুটান থেকে দেশে গরু-মহিষ তেমন একটা আসতে পারছে না। ফলে এবার কোরবানির বাজার পুরোপুরি দেশীয় পশু নির্ভর হতে যাচ্ছে। ঈদ পর্যন্ত হাটগুলোতে বিদেশি গরু তেমন একটা না আসতে পারলে এবার দেশীয় গরুর খামারিরা লাভবান হতে পারবেন। এতে আগামী দিনে খামারিরা গরু পালনে আরো উত্সাহী হবে। লোকসানের মুখে পড়তে হবে না স্থানীয় খামারিদের।

জেলায় নদীপথে গরু আসার একমাত্র রুট মেঘনা নদীর মজুচৌধুরীর হাট ঘাট এলাকা। গরুর ব্যাপারীরা জানান, মজুচৌধুরী ঘাট এলাকায় তাদেরকে গরু আনতে চাঁদা দিতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের কাছ থেকে গরু প্রতি ১২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। মজুচৌধুরীর হাট সড়কে গরুর ট্রাক ভর্তি করতে দিতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে। এছাড়া সড়ক ও নদীপথে গরু আনতে প্রতিটি পয়েন্টে চাঁদা দিতে হয় তাদের, এতে করে গরুর দাম কিছুটা বেশি।

লক্ষ্মীপুর পৌর গরুর বাজারে কোরবানির গরু ক্রয় করতে আসা এমরান হোসেন, মো. আলমগীর ও জাকির মিয়াসহ অনেক ক্রেতা জানান, গত বছরের চেয়ে গরু ও ছাগলের দাম এ বছর আরো বেড়েছে, গতবার একটা মাঝারি গরু ক্রয় করতে ৬০-৭০ হাজার টাকা লাগলেও এ বছর সেই গরু কেনার জন্য ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লাগছে।

লক্ষ্মীপুরে প্রতিটি উপজেলায় কোরবানির পশুর হাট বসেছে। এইসব পশুর হাটে স্থানীয় পাইকার ও ব্যাপারীরা ছাড়াও দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বহু পাইকার ও ব্যাপারীরা গরু ও খাসি এনে বিক্রি করে থাকেন। হাটগুলোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের বারণ সত্ত্বেও জেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। 

লক্ষ্মীপুরের পৌর পশুর হাট কর্তৃপক্ষ জানান, এবার লক্ষ্মীপুর পৌর পশুর হাটে ১ লাখ টাকার মধ্যে গরু কিনলে টোল (খাজনা) ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা। ১ লাখ টাকার উপরে গরু কিনলে টোল (খাজনা) ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। এছাড়া হাটে ছিনতাই-চাঁদাবাজি ঠেকাতে ও ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, হাটগুলোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে।