রংপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

জমে উঠেছে রংপুর বিভাগের কোরবানির পশুর হাটগুলো। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্রেতারা হাটে গরু নিয়ে আসছে। ভারতীয় গরু বাজারে না ঢুকতে পারায় দেশি গরুর খামারিরা বেশ খুশি। তবে বাজারে দাম কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুগাঁও এবং দিনাজপুর এই ৮ জেলায় ৫৪ হাজার ২১জন খামারি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১টি পশু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছে। এ ছাড়া দুই লক্ষাধিক গৃহস্থ প্রায় ১০ লাখ পশু বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া রয়েছে প্রায় ৩ লাখ। এবারে বিভাগে কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১২ লাখ পশু। অথচ কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৫ লাখ। ফলে অতিরিক্ত ৩লাখ পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছে।

রংপুর নগরীর খাসবাগ এলাকার খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ৬০ টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ওই গরুগুলো বিক্রি করলে তাকে অনেক লোকসান গুনতে হবে। তাই এখনো গরু বিক্রি করেননি। তবে ভারতীয় গরু বাজারে না উঠলে দেশী গরুর দাম বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।

সরেজমিনে লালবাগ, নিশবেতগঞ্জ ও বুড়িরহাটসহ রংপুরের বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, রংপুর বিভাগের কোরবানির হাটগুলোতে এবার গতবারের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশী গরুর চাহিদা অনেক বেশি। হাটগুলোতে নেই আগের মতো ভারতীয় গরুর চাহিদা। হাটে হাটে ক্রেতারা ছুটছেন ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশী গরু ও ছাগলের দিকেই। দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় এবং দেশীয় খাদ্যে লালন-পালন হওয়ায় ওইসব গরুর প্রতি ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

জেলা প্রাণিসম্পাদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জালাল খন্দকার বলেন, রংপুর জেলায় ভেটেনারি চিকিত্সক দ্বারা জেলার আট উপজেলার হাটগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রতিটিমে চার সদস্য ভেটেনারি ডাক্তার রয়েছে। রোগাক্রান্ত গুরু কোনোভাবে বিক্রি করতে পারবে না বলে জানান।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান বলেন, বিভাগে কোরবানিরহাট আছে ৩০৯টি, কোরবানির জন্য সুস্থ সবল গবাদিপশু চেনার/ সেবা কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য ১২৯টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিকারক কোনো ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে যাতে কোনো খামারি গরু মোটা তাজা করতে না পারে সে জন্য মাঠ কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন।

নাটোরে জমে উঠেছে হাট

নাটোর :নাটোর জেলার আশপাশের এলাকা থেকেও ছোটো-বড়ো-মাঝারি বিভিন্ন জাতের গরু-ছাগলের সমাগম হয় নছিমন, ভটভটি আর ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে। ঐতিহ্যবাহী তেবাড়িয়া ও সিংড়া হাটের পাশাপাশি বসেছে আরো কয়েকটি হাট। মৌখড়া, করোটা, ডাঙ্গাপাড়া, গুনাইখাড়া ও জোনাইল নাটোরের উল্লেখযোগ্য হাট। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সপ্তাহের প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট হাটগুলো ঢাকার ব্যাপারী আর স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে থাকবে মুখর।

জেলা তথ্য কর্মকর্তা ডা. মো. বেলাল হোসেন জানান, নাটোর জেলায় কোরবানির পশুর সমাহার এবার অনেক বেশি। বর্ষাকাল হলেও সব পশুই সুস্থ আছে।

দিনাজপুরে হাটে গরু আছে

 ক্রেতা নেই!

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর :কোরবানি ঈদের কয়েকদিন আগে গরু কিনলে লালন পালনের ঝামেলা। তাই হাটে তেমন ক্রেতা সমাগম নেই। কিছু সংখ্যক ক্রেতা গরুর হাটে এলেও কিনতে নয়, দাম যাচাই করতেই এসেছেন। গরুর হাট জমে না ওঠার পিছনে এমন কথাই জানালেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ হাটে গরু বিক্রি করতে আসা মোহাজ্জম হোসেন।

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোর মধ্যে সপ্তাহে গোলাপগঞ্জ হাট, বীরগঞ্জ হাট এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার কাহারোল হাট অন্যতম। গোলাপগঞ্জ হাট সোম ও বৃহস্পতিবার, রবি ও বুধবার কাহারোল বীরগঞ্জ পৌরসভা হাট এবং শনিবার ও মঙ্গলবার কাহারোল হাট বসে। এ হাটে প্রতিবছর প্রচুরসংখ্যক কোরবানির পশু কেনা-বেচা হয়। স্থানীয়রা এ হাট থেকেই কোরবানির পশু কেনেন।

এসব হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ী গরু ও ছাগল কিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত তাদের দেখা মেলেনি। ফলে স্থানীয় বিক্রেতা ও ব্যাপারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। 

কামারখন্দে হাটে পশু আমদানি বেশি, ক্রেতা কম

কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) :কামারখন্দের হাটগুলোতে পশুর আমদানির তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। এদিকে পশু বিক্রি করে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ স্থানীয় পশু খামার ও পালনকারীরা।

কামারখন্দ হাট ঘুরে দেখা গেছে, যে গরু দেড় লাখ টাকা হওয়ার কথা সে গরু বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ২০/২৫ হাজার টাকায়। অপরদিকে ছাগলের বাজারে ছাগল প্রতি ৪/৫ হাজার কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে খামারিদের।

উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামের গরু খামারি ইকবাল হোসেন জানান, এ বছর আমি ২২টি গরু মোটাতাজা করেছিলাম। তবে গরু বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত দাম পাইনি। ধলেশ্বর গ্রামের সামসুল আলম জানান, গো-খাদ্যের যে দাম সে তুলনায় পশু বিক্রি করে খুব একটা লাভবান হতে পারছি না।