মেহেরপুরের আমঝুপি থেকে খোকসা সড়ক
মাহাবুব চান্দু, মেহেরপুর প্রতিনিধি
লেভেল ও জমাট বাঁধার দোহাই দিয়ে নিম্নমানের ইট আর ঝামা দিয়ে রোলিং করা হচ্ছে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি থেকে খোকসা সড়কের সংস্কার কাজ। অথচ দরপত্রে উন্নতমানের ১ নম্বর ও পিকেট ইট দিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
গত রবিবার সকালে সড়কে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো রাস্তা খুঁড়ে তার ওপর কিছু পিকেট ইট ও নিম্নমানের ইট দিয়ে রোলিং করা হয়। পরে অতি নিম্নমানের ইট ওপরে দিয়ে তার ওপর রোলিং করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ চলছে এমন কোনো প্রকল্প সাইনবোর্ডও লাগানো হয়নি কোথাও। ফলে এলাকাবাসী জানেও না কত টাকার কাজ এটি, কিভাবে সম্পন্ন হবে। ঐ সড়কে কাজ করা আনারুল ইসলাম নামের একজন সড়ক নির্মাণ মিস্ত্রি জানান, আগে রাস্তা করলে পরে বালি দিয়ে রাস্তা সমান করতে হতো। এখন বালি দেওয়া নিষেধ তাই দুর্বল ইট দিয়ে রাস্তা সমান ও জমাট বাঁধানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ট্রাকচালক জানান,‘যেভাবে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে এর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন গেলেই এই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। তিন মাসও ঠিক থাকবে না। মন্ত্রীর ভাই ঠিকাদার তাই কেউ কিছু বলতেও পারছে না।
আমঝুপি গ্রামের বাচ্চু মিয়া রসিকতা করে বলেন, ‘রাস্তা ফাইন হচ্ছে। আমা আর ঝামা ইট দিয়ে করা হচ্ছে। ঝামাটা না দিলেই ভালো হতো। শুধু আমা ইট দিলেই রাস্তা কি সুন্দর সমান হতো’। সড়কের দেখভালের দায়িত্বে থাকা এলজিইডির কার্য সহকারী শফিকুল ইসলাম জানান, ‘উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন এই রাস্তার দায়িত্বে আছেন। আমি কিছু বলতে পারব না। তার কাছ থেকে জেনে নেন’।
উপজেলা এলজিইডি উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন জানান, ‘ভালো মানের ইট দিয়েই রাস্তা রোলিং করতে হবে। কোনো ধরনের আমা ইট ব্যবহার করা যাবে না। কার্য সহকারীদের এই কাজ বুঝে নেওয়ার কথা। তারা কি করছেন দেখছি বলে তিনি ফোন রেখে দেন’?
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে আমঝুপি থেকে খোকসা পর্যন্ত ৫ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে ৩ হাজার ৪০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আমঝুপি থেকে কালিতলা পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ মিটার এবং খোকসা প্রান্তে ১ হাজার ৬০০ মিটার রাস্তার সংস্কারের কাজ চলছে। চওড়া ১৬ ফিট। রাস্তার মাঝখানে তিন ইঞ্চি এবং দুই সাইডে ৬ ইঞ্চি করে পুরুত্ব করতে হবে। জমাট বাঁধার পর পিচের কাজ শুরু হবে। আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহানউদ্দিন আহমেদ চুন্নু জানান, এই কাজ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে হচ্ছে এই অভিযোগ আমি শুনেছি। আমি ব্যস্ত থাকায় সরাসরি দেখতে পারিনি। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।
সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘কাছে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো দেখে সমাধান করবো’। মেহেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আছাদুজ্জামান জানান, ‘নিম্নমানের ইট দিয়ে রোলিং করার কোনো নিয়ম নেই। আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে কাজের স্থানে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো’। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ঠিকাদার সরফরাজ হোসেন মৃদুল জানান, ‘আমি সবসময় কাজের স্থানে যেতে পারি না। মিস্ত্রিরা কিছু আমা ইট লেভেল করার জন্য দিয়েছে। আমি জানার পর নিষেধ করেছি। এখন থেকে ভালো ইট দিয়ে লেবেল করা হচ্ছে’।