রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সুষমা স্বরাজের

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জনপ্রিয় রাজনীতিক সুষমা স্বরাজের শেষকৃত্য। তাকে বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে সরকারি ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। স্যালুট জানিয়ে সুষমাকে শেষবারের মতো বিদায় জানিয়েছেন স্বামী ও কন্যা। মঙ্গলবার রাতে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান সুষমা স্বরাজ। তার শেষকৃত্যে শ্রদ্ধা জানিয়েছে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন। খবর এনডিটিভির

গতকাল বিকেলে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সুষমা স্বরাজের শেষকৃত্য হয়। সুষমা স্বরাজকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সুষমার মৃত্যুর টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন,               এমন একজন নেত্রীর প্রয়াণে গোটা ভারত মর্মাহত, তিনি তার জীবন জনসেবা এবং দরিদ্রদের জীবনকে উন্নত করার জন্য উত্সর্গ করেছিলেন। সুসমা স্বরাজ এমন এক ধরণের ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উত্স ছিলেন। প্রয়াত নেত্রীকে শেষশ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এলকে আদভানি ও রাজনাথ সিং। তার মরদেহ বিজেপির সদর দফতরে রাখা হয় দলীয় কর্মী ও নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। তারপর সেখান থেকে লোধি শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় সুষমা স্বরাজের। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তর রোডে সুষমার বাসভবনে যান তাকে শেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য। সুষমার স্বামী স্বরাজ কৌশল ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উপ-রাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। সোনিয়া গান্ধীকে দেখা যায় তার কন্যা বানশুরিকে আলিঙ্গন করতে। রাহুল গান্ধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও সুষমা স্বরাজের বাসভবনে উপস্থিত হন। শেষকৃত্যের প্রস্তুতি হতেই স্যালুট দিয়ে সুষমা স্বরাজকে শেষবিদায় জানানোর কথা বলতে শোনা যায় প্রয়াত নেত্রীর স্বামী স্বরাজ কৌশল এবং কন্যা বানশুরি স্বরাজকে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রদ্ধা

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী সুষমা স্বরাজের শেষকৃত্যে শ্রদ্ধা জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দিল্লিতে সুষমা স্বরাজের বাসভবনে রাখা মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। হাইকমিশনার সুষমার কন্যা বানশুরি স্বরাজের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গভীর শোকের কথা জানান। বানশুরি শোকের সময় পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক

সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। সৌদি আরবে অবস্থানরত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে সুষমা স্বরাজের অবদান বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে। ড. মোমেন সুষমা স্বরাজের শোক সন্তপ্ত পরিবার ও ভারতের জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি  মরহুমের বিদেহী আত্মার শাস্তি কামনা করেন।