বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে কোনো অনুমোদন ছাড়াই সেসব পণ্য সংগ্রহ করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এত দিন শুধু চিনি, ডাল, ভোজ্যতেল, ছোলা আর খেজুর নায্যমূল্যে বিক্রি করত সংস্থাটি। এসব পণ্য সংগ্রহে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয়ভাবে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিস যেমন পেঁয়াজ, রসুন, আদা বা যে কোনো সময়ে যে কোনো পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। হঠাত্ করে যেসব পণ্যের দাম বাড়বে, সেটা টিসিবি যেখানেই পাক, সেখান থেকে কিনে চাহিদা মেটাতে পারবে। এর জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এই কেনাকাটায় কোনো আর্থিক সীমাবদ্ধতা নেই। এজন্য কোনো আইন পরিবর্তন করতে হবে না বলেও উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাত্ক্ষণিকভাবে যেন চাহিদা মেটানো যায়, সে জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক সময় বন্যার কারণে কিছু পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। তখন এসব পণ্য হয় আমদানি করতে হয় বা অন্যভাবে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয় সপ্তাহে এক দিন। এসব পণ্য কেনার অনুমতির জন্য এই কমিটিতে আসতে সময় লেগে যাবে এক মাস। এ জন্য টিসিবি কর্তৃপক্ষ বা মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা নিজেরাই প্রয়োজনে এসব পণ্য কিনতে পারবে।
প্রণোদনায় ২০ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স আসবে
রেমিট্যান্সে প্রণোদনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইতালি, সৌদি আরবসহ কিছু দেশ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের ওপর চার্জ বসিয়েছে। তাই প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। শতকরা ২ ভাগ প্রণোদনা দেওয়ার ফলে তারা আর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাবেন না। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে সেটি বেড়ে বছর শেষে ২০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে আশা করছি।’ রেমিট্যান্সের প্রণোদনা কীভাবে দেওয়া হবে, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাবে সেই ব্যাংকই তাদের প্রণোদনার অর্থ দেবে। পরবর্তীতে ব্যাংকগুলোকে সরকার সেই অর্থ পরিশোধ করে দেবে। উল্লেখ্য, কোনো প্রবাসী ১ হাজার ৫০০ ডলার রেমিট্যান্স পাঠালে তাকে কোনো প্রশ্ন না করে পাঠানো অর্থের বিপরীতে শতকরা ২ ভাগ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু কেউ যদি এর বেশি অর্থ পাঠান, তার কাছে কিছু কাগজপত্র চাওয়া হবে। তবে রেমিট্যান্স পাঠানোর কোনো ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।