ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে ইসলামাবাদ। একইসঙ্গে নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের দূতকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীক বাণিজ্য বন্ধসহ মোট পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। খবর এএফপি ও ডনের।
গত সোমবার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয় বিজেপি সরকার। এর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে রাজ্যসভা ও লোকসভায় বিল পাশ হয়েছে। ‘জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল’ ২০১৯ নামের এ বিলের আওতায় জম্মু-কাশ্মীরকে দু’ভাগ করে দুইটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার কথা বলা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হবে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হচ্ছে। এর আগে কাশ্মীরজুড়ে ভারতীয় সেনা সমাবেশ ঘটানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আটক করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ভারত কাশ্মীরের জনসংখ্যার বিন্যাস বদলে দেবার পরিকল্পনা করছে। একে তিনি জেনেভা কনভেনশনের লংঘন বলে অভিহিত করেন। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যাওয়ারও হুমকি দেন।
গতকাল বুধবার এই ইস্যুতে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি) জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৈঠকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে ভারতের পদক্ষেপকে একতরফা ও অবৈধ দাবি করে পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাকিস্তান সরকারের এক টুইট বার্তা অনুযায়ী এগুলো হলো, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করা, ভারতের সঙ্গে সকল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ করা, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিসমূহ পুনর্বিবেচনা করা, বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরা এবং আগামী ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে সাহসী কাশ্মিরীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা।
বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত সরকারের নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সারা বিশ্বে তুলে ধরতে সব কূটনৈতিক চ্যানেলকে সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একইসঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীকে সার্বক্ষণিক সতর্কাবস্থায় থাকতে বলেছেন। বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতারা নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে প্রত্যাহার এবং ইসলামাবাদে ভারতের হাই কমিশনারকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি এআরওয়াই টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমাদের দূত আর নয়াদিল্লিতে থাকছেন না। একইসঙ্গে ভারতের হাই কমিশনারকে ফেরত পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, ভারতীয় হাই কমিশনার অজয় বিসারিয়া ইসলামাবাদে দায়িত্বরত থাকলেও পাকিস্তানের নব নিযুক্ত হাই কমিশনার মইন-উল-হক এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। পাকিস্তানের এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাত্তাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল জুবায়ের হায়াত, সেনা প্রধান জেনারেল কামার বাজওয়া, নৌ প্রধান অ্যাডমিরাল জাফর মেহমুদ আব্বাসি, বিমান বাহিনীর প্রধান মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান, আইএসআই মহাপরিচালক লে. জেনারেল ফায়েজ হামিদ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।