কাশ্মীরে বিক্ষোভ

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও বিক্ষোভ চলছে। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ চলছে উপত্যকায়। সোমবার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ইন্টারনেট ও মোবাইল বন্ধ করে দেয় সরকার। কিন্তু গতকাল বুধবার প্রতিবাদ-বিক্ষোভের খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। পুলিশের তাড়ায় এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ইতোমধ্যে আদালতে ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরুদ্ধে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। কাশ্মীরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল। ওআইসি কাশ্মীরে মানবাধিকার সংস্থার প্রবেশের দাবি করেছে।               ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারত ও পাকিস্তানকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে। এদিকে কাশ্মীরের ঘটনার পর পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

বিক্ষোভে নিহত এক, গ্রেফতার চার শতাধিক

প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের আশঙ্কা ছিল আগে থেকেই। ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার এর কোনো খবর পাওয়া না গেলেও গতকাল থেকে কিছু খবর আসতে শুরু করেছে। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, হোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি ও বেসরকারি ভবনকে অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ শতাধিক রাজনীতিক, উপদেষ্টা ও স্বাধীনতাপন্থী নেতাদের। পুরো উপত্যকা যেন কারাগারে পরিণত হয়েছে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, এটা তো কেবল শ্রীনগরের চিত্র। উপত্যকার বাকি অংশের ছবিটা ঠিক কেমন তা স্পষ্ট নয়। এখনো বন্ধ ল্যান্ডলাইন, মোবাইল, ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড, ক্যাবল পরিষেবা। সেগুলো চালু হলে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ আরো বাড়বে এমন আশঙ্কা করছে পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবারই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কেন্দ্রকে পাঠানো রিপোর্টে জানিয়েছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপকে স্বাগত জানিয়েছেন কাশ্মীরবাসী। তখনই অনেকে ধারণা করেছিলেন, এই শান্তি চিরস্থায়ী নাও হতে পারে। এর প্রমাণ পাওয়া গেল গতকাল। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে দফায় দফায় বিক্ষোভ-মিছিল হয়েছে শ্রীনগরে। পুলিশ ও সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে একাধিক দলের।

পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, একটি দলের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এর মধ্যেই এক জনকে তাড়া করে পুলিশ। সেই তাড়া খেয়েই ঝিলম নদীতে ঝাঁপ দেন ওই যুবক। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সংঘর্ষে পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অন্তত ৬ জনের দেহে গুলির ক্ষত রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশকর্তা এই গ্রেফতারের খবর স্বীকারও করেছেন। তবে এদের মধ্যে হেভিওয়েট কোনো রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী আছেন কি না সেই বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হননি ওই পুলিশকর্তা।

এর মধ্যেই গতকাল বুধবার শোপিয়ানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান অজিত ডোভাল। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়াও করেন। এরপর শোপিয়ানেই সিআরপিএফের একটি ক্যাম্পে যান এনএসএ। জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে জওয়ানরা যেভাবে কাজ করেছেন তার কোনো তুলনা হয় না বলে জানিয়েছেন দোভাল। সব মিলিয়ে এখনো থমথমে গোটা উপত্যকা। নিরপত্তার চাদরে মুড়ে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গ করে তোলা হয়েছে। এই পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে এবং কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার উত্তর খুঁজছেন কাশ্মীরবাসী। অন্যদিকে কারফিউ তোলার পর কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। অন্যদিকে জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের নাম যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

আদালতে পিটিশন

 সরকারের ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতে যান আইনজীবী শর্মা। তার যুক্তি হচ্ছে- ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ করতে গেলে জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভায় আগে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু একতরফাভাবেই বাতিল করা হয়েছে। যদিও সরকারের দাবি, ওই ধারা অস্থায়ী এবং রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলেই সেটি তুলে দিতে পারেন।

ওআইসির নিন্দা

ভারতের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও একতরফা’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যাছাই করতে স্বাধীন স্থায়ী মানবাধিকার কমিশন (আইপিএইচআরসি) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে ইইউ’র পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র কার্লোস মার্টিন রুইজ বলেছেন, কাশ্মীরে যেন পরিস্থিতি শান্ত থাকেই সেটাই চাই। ইইউ ভারত ও পাকিস্তানকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে।

পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি

জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ‘গোর্খাল্যান্ড’পন্থীরা। জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আখ্যা দেওয়ার কয়েক ঘন্টা যেতে না যেতেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পোস্টার পড়লো দার্জিলিংয়ে। খবর-এনডিটিভি, বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার