চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ ১৯ মাস পর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেও স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রবল বাধার মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চার ইউপি চেয়ারম্যান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে একটি ইউনিয়নে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে গেলে উপজেলা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে বাধা দেন। খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্য ও অনুসারীরা সেখানে পৌঁছালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা ও সাইফসহ অন্তত তিনজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঝামেলার আশঙ্কায় খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান তাফসির আহমেদ মল্লিক, চিৎলা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার ও ডাউকী ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম গতকাল নিজ কার্যালয়ে যাননি। এর আগে বুধবার খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁকে বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও-কে অবহিত করেছেন।
২০২৪ সালের ২১ মে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে এই চার চেয়ারম্যান জয়ী হন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে ২৭ নভেম্বর সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানরা উচ্চ আদালতে রিট করলে গত ১২ মার্চ আদালত প্রশাসক নিয়োগের আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং তাঁদের স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেন। সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁদের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা বলেন, “ফ্যাসিবাদের দোসরদের চেয়ারে বসার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ চলছে। নেতা-কর্মীরা তাকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।”
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হামলার নিন্দা জানাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আমাদের আস্থা আছে।”
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে এবং চেয়ারম্যানদের সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে।