ব্যাংক সুদের হার কমানোর দাবি এফবিসিসিআইয়ের

সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৫ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের (৫৪ বিলিয়ন) রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে রপ্তানিসহায়ক নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষত বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক সূদের হার কমানো এবং ঋণ প্রাপ্তি সহজলভ্য করতে হবে। এর সঙ্গে বেশকিছু দাবি উল্লেখ করে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হলে গত অর্থবছরের ন্যায় চলতি অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে। সরকারের নতুন রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার ওপর গতকাল এ প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোর দাবির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও এতে কার্যকর ফল দেখা যাচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক  অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা রয়েছে। ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে সম্মতি দিলেও দু-একটি ব্যাংক বাদে বাদবাকিরা সুদের হার এক অঙ্কে নামায়নি।

উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালাতে গিয়ে অনেক উদ্যোক্তার পক্ষেই দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসাকে টেকসই করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্যোক্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে এত উচ্চহারে ব্যাংক ঋণের সুদ গুনতে হয় না। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ের খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে রপ্তানির প্রতিযোগিতায়ও পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে বলা হয়, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে উত্পাদন ব্যয় কমানো ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ক্ষেত্রে সকল ধরনের নীতি সহায়তা, চট্টগ্রাম বন্দরসহ সকল বন্দর, এয়ারপোর্ট প্যাসেঞ্জার এবং কার্গো অপারেশন ও ব্যবস্থাপনা, মাল্টিমোডাল কানেকটিভিটি, ট্রেড লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা  ও সেবার  সক্ষমতা  বৃদ্ধি করতে হবে। বৈদেশিক বাণিজ্যকে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বাণিজ্য সহায়ক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবসা সহজ করার কার্যক্রম আরো জোরদার করা প্রয়োজন। চলতি বছর নতুন ১৩টি পণ্য রপ্তানিতে ‘নগদ সহায়তা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত উচ্চ রপ্তানি অর্জনে সহায়ক হবে। অবশ্য বাণিজ্য সহজীকরণের সব সুবিধা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ সংগঠন।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের সার্বিক রপ্তানি (পণ্য ও সেবা) আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। আলোচ্য অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে।