ডেঙ্গু নির্মূলে বছরব্যাপী চাই জাতীয় পরিকল্পনা

ঈদের সময় অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, সামগ্রিক গণসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তা বাড়িয়ে যত দ্রত পারা যায় এডিস মশা নির্মূলে আমাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। সাময়িকভাবে সতর্কতার সঙ্গে রাসায়নিক ব্যবহার করলেও বছরব্যাপী ডেঙ্গু নির্মূলে সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পবা কার্যালয়ে ‘ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদ যাত্রায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবার ধারণার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আর এই সময়ে আমরা উদযাপিত করতে যাচ্ছি পবিত্র ‘ঈদুল আজহা’। এই উত্সবকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে বাড়ি যাচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি এবং সমন্বিতভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

নেতারা আরো বলেন, পত্রিকার হিসাব মতে, ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০০ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা যে এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি, তা যে কেউ অনুমান করতে পারে। কারণ, ডেঙ্গুর সব তথ্য তো পত্রিকাতে পাওয়া সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার নামিদামি হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েও বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছেন। তাছাড়া সরকারি হাসপাতালেও কেউ কেউ মারা গেছেন। অনেকে আবার সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

আলোচনা সভায় বলা হয়, যারা শহরে বসবাস করেন তাদের অনেকেই নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে যাবেন স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। যারা বাড়ি যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের অনেকেই ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে বহন করতে পারেন। অনেকে আবার জ্বর নিয়েও বাড়িতে যেতে পারেন। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত মানুষদের কোনো প্রকার ভ্রমণ আরো অনেককেই বিপদে ফেলতে পারে, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তিও ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারেন গ্রামে থেকে। ঈদের সময় আমাদের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও নির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি। 

একই সঙ্গে বক্তারা এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজনন ক্ষেত্র সব সময় পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট চিকিত্সক ডা. লেলিন চৌধুরী, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী, পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, নীতিবিশ্লেষক ও আইনজীবী মাহবুবুল আল তাহিন, স্বাস্থ্য পরামর্শক জেবুন নেসা, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, শাকিল রহমান, বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা সুদিপ্তা কর্মকার প্রমুখ। আলোচনা সভায় ধারণাপত্র উত্থাপন করেন বারসিকের সহযোগী সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।