কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভায় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দুই গ্রামে অন্তত ১০ হাজার মানুষ। সেই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বলদিপাড়া গ্রামে বুড়ি তিস্তার উপর সেতুটি নির্মাণে একাধিক জনপ্রতিনিধি কথা দিলেও কেউ কথা রাখেনি বলে আক্ষেপ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, উলিপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে উলিপুর-চিলমারী সড়ক হতে বলদিপাড়াগামী সরকারি এ রাস্তায় বুড়ি তিস্তার ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটির এখন অত্যন্ত নড়বড়ে দশা। এমন নাজুক অবস্থায় থাকলেও প্রতিদিন এ সেতুর উপর দিয়ে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীসহ বৃদ্ধ ও নারীরা জীবন ও জীবিকার তাগিদে যাতায়াত করে থাকে। মূলত বলদিপাড়া ও নূরপুর গ্রামের বাসিন্দারা দুর্ভোগের বেশি। এই দুই গ্রামে অন্তত ১০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন।
তথ্য সংগ্রহে গিয়ে কথা হয় ওই এলাকার দিনমজুর আবেদ আলীর সঙ্গে। তিনি ইত্তেফাক ডিজিটালকে জানান, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত যুগের পর যুগ কোনো জনপ্রতিনিধিই কথা রাখেনি। সেতুটি হতে মাত্র ১০০ গজ দূরে চিলমারি-উলিপুর সড়ক সংলগ্ন নূরপুরে হযরত ফাতিমা (রাঃ) পৌর বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হাফিজ রুহুল আমিন জানান, বলদিপাড়া গ্রামের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে আসে। অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী নড়বড়ে সেতু পার হয়ে আসতে না পারায় দুরের অন্য প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে যায়। আবার অনেক শিক্ষার্থী প্রায় দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে প্রতিষ্ঠানে আসে। উলিপুর পৌরসভার মাস্টার প্লানেও এখানে সেতু নির্মাণের তালিকা আছে বলেও জানান তিনি।
খোঁজ জানা গেছে, ২০০১ সালে বুড়ি তিস্তা যখন যৌবন হারিয়েছিল, ঠিক তখনই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেছিল। পরবর্তীতে বুড়ি তিস্তা খননের ফলে এখানে সেতু নির্মাণের বিষয়টি জরুরি হয়ে পড়ে। তখন একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। পৌরসভার বলদি পাড়া গ্রাম থেকে নূরপুর গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র পথ এটি। নূরপুরে বেশ কিছু এনজিও অফিস ছাড়াও উলিপুরের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
মিফতাহ আল নূর ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, সেতু পার হয়ে বলদি পাড়া গ্রামের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমাদের স্কুলে আসে।
সরেজমিনে সেতু এলাকায় গিয়ে কথা হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিউল ও সজিবের সঙ্গে। তারা জানায়, পানি যখন বেশি হয় তখন আমরা এ সেতু পার হতে অনেক ভয় পাই। তখন আমাদের প্রায় ২ কিলোমিটার পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাজেদা ও আফরুজা বলে একই কথা।
ওই এলাকার আব্দুল মান্নান, আনিসুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁশের সেতুস্থলে একটি সেতু নির্মাণ জরুরি কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় অত্যন্ত দুর্ভোগে আমরা। অন্যদিকে, বলদিপাড়া গ্রামেই উলিপুর আদর্শ কলেজ অবস্থিত। আদর্শ কলেজের অনেক শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।
উলিপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম মাস্টার প্ল্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামীতে বরাদ্দ আসলেই ওই সেতু নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।