সামনে ঈদের লম্বা ছুটি। মানুষ ছুটছে মাটির টানে। এই সময় দেশে চলছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। এই আতঙ্ক কি ঈদ- আনন্দের মাঝে ঢুকে পড়বে? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ই-মেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো।
পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। তবে আমি মনে করি, এবারের ঈদে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু ও বন্যার ব্যাপক ক্ষতি। আমার ধারণা, এই দুই কারণে এবারের ঈদ আনন্দ কিছুটা উদ্বেগের মধ্য দিয়েই যাবে। ডেঙ্গু ও বন্যার কারণে বিষাদের ছাপ পড়বে এবারের ঈদ আনন্দেও। পরিবার-পরিজন নিয়ে যারাই গ্রামে ঈদ করতে যাবেন, তাদের মধ্যে ডেঙ্গুর আতঙ্ক থেকেই যাবে।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।
নাড়ীর টানে ঈদের ছুটি কাটাতে মানুষ আপন নীড়ে ফিরছে সত্য। কিন্তু ডেঙ্গু আতঙ্ক এখন দেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচে ঘরে ঘরে। আতঙ্কিত অবস্থায় আনন্দের কথা! আসলেই আতঙ্কগ্রস্ত থাকলে কোনো আনন্দই পূর্ণতা পায় না। তাই, সর্বজনীন এ উত্সবের সময়ে সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে নিজ নিজ বসতবাড়ির আশেপাশে পরিচ্ছনতার উত্সবে মেতে উঠে ডেঙ্গু দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে এসে আতঙ্কিত অবস্থা প্রশমনে ভূমিকা নিতে হবে।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু
সেনবাগ, নোয়াখালী
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অতীতে যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতি মিনিটে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে মানুষের মাঝে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন যতই বলুক ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসছে, তবে তা আসলে না। দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণহীন। ডেঙ্গু চিকিত্সায় হিমশিম অবস্থা চিকিত্সকদের। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে আসন্ন ঈদুল আজহার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেলে এ ভাইরাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ডেঙ্গু যাতে বিস্তার না করে আসছে ঈদে ডেঙ্গু রোগীকে ঢাকা না ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাতে দেশে ঈদ স্বাভাবিকভাবে হতে পারে। আর সবাই আতঙ্কে না থেকে সতর্ক থাকলেই হবে।
সাদিয়া সুলতানা মাহি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
স্কুল অ্যান্ড কলেজ,
সাভার, ঢাকা।
দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। এ সময় পেশাজীবী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা শিল্পপতি—সবারই কোরবানির পশু কেনাসহ আনুষঙ্গিক কাজের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। তবে সারাদেশে ডেঙ্গুর দাপটে সে চিত্র এখন অনেকটাই উধাও। বরং ডেঙ্গু আতঙ্কে শহর-বন্দর-গ্রামে সবাই তটস্থ। আবার কেউ কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত স্বজনদের নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতালে; রোগীর শয্যাপাশে তাদের দিনরাত একাকার। তাই ঈদ আনন্দ এবার অনেকটাই ফ্যাকাশে হবে বলে আমি মনে করি। এদিকে সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের এবার ঈদুল আজহার ছুটি নেওয়ার ব্যাপারে কঠোরভাবে নিরুত্সাহিত করায় নাড়ির বাঁধন ছিঁড়ে বিভিন্ন জেলা শহরে কর্মরত সরকারি চাকুরেদের ঈদ আনন্দ অনেকটাই মাটি হতে চলেছে।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর,
দিনাজপুর।
মানুষ ছুটছে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বাড়িতে। গ্রামে সকল স্বজনদের সাথে নিয়ে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাচ্ছে। কিন্তু সাথে রয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। এই আতঙ্ক নিরাময়ের জন্য প্রয়োজন জরুরি পদক্ষেপ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাস স্টেশনে ওষুধ স্প্রে ও ডেঙ্গুমুক্ত করতে ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করা প্রয়োজন। সর্বপরি প্রতিটি পাড়ামহল্লায় আশপাশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহণ করা।
মো. রবিউল হোসেন রবি
অ্যাডভোকেট কাজীপাড়া মিরপুর ঢাকা
একদিকে ঈদ আনন্দ। অন্যদিকে ডেঙ্গু আতঙ্ক। দুয়ের মধ্যে মানুষ এখন রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার অব্যাহত। তবুও গ্রামে যেতে হবে। সেখানে আত্মীয়স্বজন মা-বাবাসহ অনেকে। সবার সাথে ঈদ আনন্দে মিলন মেলা হবে। ডেঙ্গু আতঙ্কে ঈদ আনন্দকে ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন প্রতিটি স্টেশনে ডেঙ্গু ওষুধ ছিটানো। নদীপথ লঞ্চে প্রতিদিনই ওষুধ ছিটানো বাস স্টেশনেও মশার ওষুধ ব্যবহার করা জরুরি।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
ডেঙ্গুর জীবাণু এডিস মশা ছড়ায়। সাধারণত স্বচ্ছ ও অল্প পানিতে এই মশার বিস্তার হয় বলে গবেষণায় জানা গেছে। ঢাকা শহরে সাম্প্রতিককালে ছাদকৃষির প্রচলন চালু হয়েছে। এই ছাদকৃষির টবে স্বচ্ছ পানি জমা থাকে এবং এই পানিতেই এডিস মশার জন্ম ও বিস্তার হয়। গ্রামাঞ্চলে এখনও এই মশার আবির্ভাব হয়নি। কারণ গ্রামের জলাশয়, পুকুর, নদীনালা থাকলেও সেগুলো মাছে খেয়ে ফেলে।
কৃষিজমিতে যেখানে ধান রোপণ করা হয়, সেখানে কীটনাশক স্প্রে করা হয়। ফলে এডিস বংশ বিস্তার করতে পারে না। এই ঈদ মৌসুমে যারা শরীরে বহন করে ডেঙ্গু নিয়ে যাবে, তাদের দ্বারা অন্য জনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আশা করা যায়, এডিস ধ্বংস হলে এর প্রকোপ কমে আসবে।
খন্দকার কামরুজ্জামান
৩৬৩/১০, উত্তর পীরেরবাগ
মিরপুর, ঢাকা।
সামনে ঈদ আসছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। এই সময় দেশে চলছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। ডেঙ্গু আতঙ্ক আর ঈদ আনন্দ যেন আজ একাকার হতে বসেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ডেঙ্গুমুক্ত ঈদ যাত্রার জন্য প্রস্তুতি দরকার। যদিও আমরা দেখছি কমলাপুর রেল স্টেশন, সদরঘাটের লঞ্চ স্টেশন, বাস স্টেশনগুলোয় মশা নিধনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গ্রামে-গঞ্জেও এর চিকিত্সার ব্যবস্থার জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
হোসনে আরা করিম নীলা
‘নারীর কথা’
হাজারীবাগ, ঢাকা।
ঈদ আনন্দে লম্বা ছুটিতে মানুষ ফিরছে। মানুষ যাতে স্বস্তিতে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে পারে, সে ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যেহেতু ডেঙ্গু আতঙ্ক চলছে দেশে, সে কারণে প্রতিটি স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য ক্যাম্প স্থাপন করা আবশ্যক। ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে ঘরবাড়ি, আশপাশের সব এলাকায় পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখতে হবে।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা।
ডেঙ্গু আতঙ্কে ঈদ আনন্দ— এ বিষয়টি আজ মানুষ ভাবিয়ে তুলেছে। খুশিতে মানুষ বাড়ি ফিরছে। ঈদের সবার সঙ্গে মহামিলনে মিলবে। কিন্তু এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত যারা, তারা বহন করে নিয়ে যাবে ডেঙ্গু রোগ। যারা গ্রামে বসবাস করছে ডেঙ্গুমুক্ত, তাদের জন্য অবশ্যই আতঙ্কের বিষয়। এ অবস্থায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে—এমন নিশ্চয়তা চাই আমরা। ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের অনুরোধ জানাচ্ছি।
জাহাঙ্গীর খান বাবু
মতিঝিল, ঢাকা।
আর মাত্র দুই দিন পরেই ঈদ অর্থাত্ আগামী সোমবার মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় আনন্দ-উত্সব ঈদুল আজাহা। সেই ঈদকে সামনে রেখে মানুষ ছুটছে গ্রামের বাড়িতে। অনেকেই ডেঙ্গু বহন করে বাড়ি যাচ্ছে। তাই আমরা মনে করি, এই ডেঙ্গু নিরাময় ও ডেঙ্গুমুক্ত করতে হলে সারাদেশে লিফলেট বিতরণের মধ্যদিয়ে কার্যক্রম চালাতে হবে। আমাদের চারপাশ পরিচ্ছন্নসহ ডেঙ্গুর উত্পত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। গ্রামেও ডেঙ্গু সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। সেখানে চিকিত্সার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বিউটি
মালিবাগ, ঢাকা
ঈদ আনন্দ আতঙ্ক নিয়ে রাজধানী থেকে নাড়ির টানে বাড়ি ছুটছে মানুষ। আনন্দ থাকলেও আছে আতঙ্ক। ডেঙ্গু মশার আতঙ্ক। আমরা সবাই ডেঙ্গু মশা সম্পর্কে সচেতন ও নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি তাহলে ডেঙ্গু মশার উপদ্রবে কেহ আক্রান্ত হবে না। আতঙ্কিত না হয়ে ডেঙ্গু মশার নিধন এবং প্রতিরোধে সবাই মিলে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
সম্প্রতি দেশে মশাবাহিত ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিত্সালয় ডেঙ্গু আক্রান্তদের ব্যাপক ভিড়। মারা গেছেন অনেকেই। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দীর্ঘ ছুটিতে মানুষ ছুটছে মাটি ও নাড়ির টানে। ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং তাদের পরিবার আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করবে—এটাই স্বাভাবিক। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা নিয়েই তো জীবন। তাই ডেঙ্গু আতঙ্কে নিজের আনন্দ, ঈদের আনন্দ উপেক্ষা করা নয়। ধৈর্য-সচেতনতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।
মো. আব্দুর রাজ্জাক নাছিম
নির্বাহী পরিচালক
স্বাধীন জীবন
চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
আমাদের জীবন কষ্টের দুঃখের বেদনার। এই ডেঙ্গু আতঙ্ক সত্ত্বেও ঈদের আনন্দে মানুষ সুদীর্য বন্ধে নাড়ীর টানে বাড়ি ফিরছে। অথচ এখানে আমাদের মানুষ চলার পথে সামনে বাধা-বিঘ্ন আছে জেনেও গতি কমিয়ে দেয়নি। আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উত্সব যেন সবার জন্য মঙ্গলময় হয় সে কামনা করছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি। এটি সরকারের পাশাপাশি আমাদের সমাজের সকলকে ভূমিকা ও সচেতনবোধ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিশেধক ওষুধ সঙ্গে রাখতে হবে। সরকারকেও ওষুধপত্রের সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমান টিম গঠন করে যেখানে ডেঙ্গুর প্রভাব বেশি সেখানে তদারকির ব্যবস্থা নিতে হবে।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌঃ
হাউজিং স্টেট , রাজশাহী-৬২০২
ঈদের আনন্দ সবার ঘরে ঘরে। যারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে তারা অনেক আনন্দ নিয়ে রওনা হচ্ছেন। সর্বত্র ভীড়। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এত আনন্দের মধ্যেও রয়েছে মশাবাহিত ডেঙ্গু আতঙ্ক। এই আতঙ্ক নিয়েই তারা চলেছেন। এই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিনিয়ত ওষুধ স্প্রে, চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সবার জনসচেতনতাই একমাত্র অবলম্বন।
বিপ্লব আলম
উর্দুরোড
লালবাগ , ঢাকা
ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। যদিও দুর্বলচিত্ত মানুষেরা ডেঙ্গু নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা ও গুজব শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ঈদের সময় যারা শহর থেকে গ্রামে যাবেন তারা যদি কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে চিকিত্সা নেওয়ার জন্য শহরে অবস্থান করাই ভালো হবে। কারণ গ্রামে তারা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। যার জন্য তাদের আতঙ্কের কারণ রয়েছে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক আত্মসচেতন এবং ডেঙ্গু সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা উচিত।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ