এই মৌসুমেই ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত করতে কাজ করছি: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চলতি মৌসুমেই নগরীকে ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সেবা সংস্থাগুলো। 

বুধবার (১৩ মে) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল খাল ও পানি নিষ্কাশন নালা সারা বছর সচল রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয় জোরদারে গঠিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয় কমিটির প্রথম সভায় এ তথ্য জানান মেয়র।

সভায় মেয়র বলেন,  আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে বর্ষায় বহদ্দাররহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, মির্জাপুল, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, হালিশহর, এইসব এলাকাতে আগ্রাবাদে পানিতে সয়লাব হত। এরকমও হয়েছে তৎকালীন মেয়রের বাড়ি মুরাদপুর বহদ্দারহাটে মেয়র ঘর থেকে বের হতে পারেননি। পরে আস্তে আস্তে পানি একটু সরে যাওয়ার পরে রিকশায় করে উনি বের হয়েছেন। কিন্তু ২০২৫  সালে আপনারা সেই পিকচার দেখেননি। ২০২৫ সালে সালে বহদ্দারহাটে পানি উঠেনি। মির্জাপুলে পানি উঠেনি। চকবাজারে পানি উঠেনি। বাকলিয়াতে পানি উঠেনি। আগ্রাবাদে পানি উঠেনি। আগে পানি নিচু এলাকাগুলোতে একসময় যেভাবে উঠতো ২০২৫ সালে সেভাবে পানি উঠেনি। এটা সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণে সেটা সম্ভব হয়েছে এবং সেটার মুখ্য ভূমিকায় ছিল আর্মি ইঞ্জিনিয়ারিং। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। 

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বছর প্রবর্তকে যে পানি উঠেছে সেটাকে একটা দুর্ঘটনা বলব আমি। কারণ যে বৃষ্টি ভারী বৃষ্টি  হয়েছে সেটা আসলে বৈশাখের জন্য বেমানান। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেটা হতে পারে। গত বছরে ৫০-৬০ ভাগ জলাবদ্ধতা আমরা কমাতে সক্ষম হয়েছি। এইবার ইনশাল্লাহ আমাদের কমিটমেন্ট ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা মুক্ত চট্টগ্রাম। আমরা এই ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত হকার ব্যবসা এবং প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্যকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “ইদানীং আমরা লক্ষ্য করছি, নগরীতে রাস্তায় হকার ব্যবসা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকেই ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করছেন এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। এসব বর্জ্য পরিষ্কার করতে আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই।