চট্টগ্রামে ফের বৃষ্টিপাতের আভাস, সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২০:৫৮

টানা বর্ষণ ও বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আবারও হালকা থেকে মাঝারি, কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকা এবং নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি হলেও বিকেলের পর আকাশ আরও মেঘলা হয়ে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে শুরু করে।

আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দ্রের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং একটি নিম্নচাপের প্রভাবও রয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিন উপকূলীয় এলাকাজুড়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। তবে গত সপ্তাহের মতো অতিবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে ১০ দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২২৮টি বাড়িঘর, ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা। বাঁশখালীর প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সাতকানিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের, দোকানপাট ও যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়।

গত ১৩ জুলাই থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছিল। তবে নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং ইতোমধ্যে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইত্তেফাক/এসএ