বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। পরে তার আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিন আবেদনটি ফেরত দিয়েছে আদালত। বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চলতি অবকাশ শেষে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে মিন্নির জামিন চেয়ে আবেদন করা হবে।
আদালতে মিন্নির পক্ষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, এ হত্যা মামলায় মিন্নি প্রধান সাক্ষী ছিল। রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বাঁচাতেই তাকে পরে আসামি করা হয়। মিন্নি বর্তমানে খুবই অসুস্থ। একজন নারী হিসেবে তার জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে সে একাধিকবার নয়ন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ছাড়া পুলিশের কাছে যে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে তাতে মিন্নির গতিবিধি সন্দেহজনক। তিনি বলেন, এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মিন্নির নাম এসেছে। এ ছাড়া তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে নিজেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ অবস্থায় তাকে জামিন দেওয়া ঠিক হবে না।
এ পর্যায়ে মিন্নির আইনজীবীকে আদালত বলে, মিন্নির জবানবন্দির কপি আপনাদের কাছে আছে কি? জেড আই খান পান্না বলেন, জবানবন্দির কপি আমাদের দেওয়া হয়নি। আদালত বলে, জবানবন্দির কপি নিয়ে আসুন তখন দেখব। এখন শুধু জামিন প্রশ্নে রুল দিচ্ছি। আইনজীবীরা বলেন, রুল নয়, জামিন প্রার্থনা করছি। আদালত বলে, জবানবন্দির কপি দাখিল না করলে জামিন বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে না। তখন জেড আই খান পান্না জামিন আবেদন ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
এর আগে ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালত মিন্নির জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর হাইকোর্টে তিনি জামিন চেয়ে আবেদন করেন।