ঈদুল আজহা উদ্যাপন করতে শেকড়ের টানে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী অনেকেই গতকাল শেষ কর্মদিবসে অফিসে হাজিরা দিয়েই বেরিয়ে পড়েন বাড়ির পথে। সব মিলিয়ে রাজধানীর জনস্রোত এখন গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল আর কমলাপুর রেল স্টেশনে। তবে বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। ভারী বর্ষণে মহাসড়কে বাস চলাচলও বিঘ্নিত হয়। গতকাল কমলাপুর রেল স্টেশন ও রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে সদরঘাটে যাত্রীদের তেমন চাপ ছিল না। অপরদিকে ঢাকা থেকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলগামী কোনো ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। ছেড়েছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্বে। ঈদযাত্রার মূল স্রোত শুরু হয়েছে গত বুধবার।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, গতকাল সকাল থেকেই টার্মিনালগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি নির্ধারিত সময়ে বাস টার্মিনালে পৌঁছাতে না পারায় প্রায় প্রতিটি বাস ছাড়ে নির্ধারিত সময়ের দুই-তিন ঘণ্টা দেরিতে। পাশাপাশি পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারাপার দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় এ রুটে চলাচলকারী বাসযাত্রীরাও দুর্ভোগ পোহান। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর দুপাশে তৈরি হয় তীব্র যানজট। গতকাল উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোর প্রতিটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টা ২০ মিনিটে যাওয়ার কথা থাকলেও কমলাপুর ছেড়ে যায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। চিলাহাটীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও স্টেশন ছেড়ে যায় ১০টা ২৫ মিনিটে। এ ছাড়া সকাল ৯টার রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ে দুই ঘণ্টা দেরিতে। এ ছাড়া দিনাজপুর-পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় সোয়া এক ঘণ্টা দেরিতে।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক জুয়েল বলেন, ঈদযাত্রায় বেশি মানুষের চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যাত্রী বেশির কারণে ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে থামায় যাত্রী ওঠা নামায় আগের চেয়ে সময় অনেক বেশি লাগছে। ফলে ট্রেনগুলো ঢাকায় আসছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পর। ফলে ঢাকা থেকে ট্রেনগুলো ছেড়ে যেতেও দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন (গতকাল) স্টেশন থেকে তিনটি স্পেশালসহ মোট ৫৫টি ট্রেনে ছেড়ে যায়।
সদরঘাট থেকেও ঈদের বিশেষ অতিরিক্ত লঞ্চযাত্রা শুরু হয়েছে। ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা নৌপথে স্বাভাবিক সময়ে ২১টি বেসরকারি লঞ্চ চলাচল করে। ঈদ সামনে রেখে এখন ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০টিরও বেশি। আর ঈদযাত্রায় শুধু এ রুটেই ২ শতাধিক নৌযান চলাচল করবে। ঈদের পর এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়তি লঞ্চের যাত্রীসেবা চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি শেষ কর্মদিবসে সকাল থেকেই তাদের পদচারণা লক্ষ্য করা গেছে সড়ক, রেল, আকাশ ও নৌপথে।