খুলনা জিআরপি থানার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার জেল গেটে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া ভুক্তভোগী ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদেরকে খবর পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দুটি তদন্ত কমিটি তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জিআরপি থানায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটির প্রধান এসপি সেহেলা পারভীন ওসির কক্ষে বসে থানার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। এ সময় সেখানে তদন্ত কমিটির অপর তিন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
পাশের কক্ষে (ডিউটি অফিসারের কক্ষ) গিয়ে দেখা যায়, পাকশী রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রধান এএসপি ফিরোজ আহমেদও থানার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। ঐ কক্ষে তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্যও ছিলেন।
এসপি সেহেলা পারভীন জানান, একজন নারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সকাল ১০টার দিকে খুলনা জেলা কারাগারের গেটে অভিযোগকারী নারীকে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার কাছে, তাকে কোথা থেকে কিভাবে আটক করা হয়, থানায় কী ঘটেছিল—সে বিষয়সহ আরো বেশ কিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়। তবে ওই নারী কী বলেছেন তা তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ঐ দিন রাতে থানায় যাদের ডিউটি ছিল তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে ব্রিফিং করা হবে।
এএসপি ফিরোজ আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তারা কথা বলতে চান। সে জন্য তাদেরকে জিআরপি থানায় আসতে বলা হয়েছে। এখনো তারা আসেনি।
গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে তিন সন্তানের মা এক নারীকে (৩০) আটক করে খুলনা জিআরপি থানা পুলিশ। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অভিযোগ দিয়ে ঐ নারীকে আটক করা হয়। শুক্রবার রাতে থানার হাজতে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।