সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আগামী বছর

দেশের সমুদ্রভাগে গ্যাস-খনিজ পাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। এক বছর কিংবা তার চেয়েও কম সময়ের মধ্যে এটি হতে পারে। আগামী বছর সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সচিবালয়ে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম এ কথা বলেন। আজ জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল এ সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রণালয়।

১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ব্রিটিশ কোম্পানি শেল ওয়েলের কাছ থেকে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে থাকা শেল অয়েলের সব শেয়ার মাত্র ৪৫ লাখ পাউন্ড স্টার্লিংয়ে (তখনকার ১৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা) কিনে নেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার। গ্যাসক্ষেত্রগুলো হলো—তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর ও কৈলাসটিলা। এই পাঁচটি ক্ষেত্রে গ্যাসের উত্তোলনযোগ্য মোট মজুত ছিল ১৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। মজুত গ্যাসের তুলনায় তখনকার ক্রয়মূল্য ছিল নামমাত্র। জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে স্মরণ করতে ২০১০ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নিরাপদ জ্বালানি ও জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় স্বার্থ ও পরিবেশ সংরক্ষণ করে কয়লা উত্তোলন লাভজনক কি-না তাও বিবেচনা করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের পাইপলাইনে গ্যাস লিকেজ ও অন্যান্য অবচয় রোধে তিতাসের পাইপলাইন নতুন করে স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী কার্যক্রম এবং দক্ষতা অর্জনে আরো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস-তেল অনুসন্ধানের কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য মডেল পিএসসি-২০১৯ এবং সমুদ্রে মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভে করার কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে।

জ্বালানি সচিব বলেন, আমাদের মডেল পিএসসিতে (উত্পাদন বণ্টন চুক্তি)  বিদেশি কোম্পানি তেমন আগ্রহী হতো না। সে কারণে পিএসসি সংশোধন করে আকর্ষণীয় করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দিয়েছে। এর পরেই সাগরে তেল-গ্যাস আহরণের জন্য দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।