‘রাইতে গোয়াল ঘরে গরুডি বাইন্দা থোয়া আছিল, ভোরে আমার মা গিয়া দেহে গোয়াল ঘরের দুয়ার খোলা। পাঁচডা গরু চুরি হইয়া গেল। কোরবানিত বেচার লাহানে গরুডি পাললাম, চুরে সব নিয়া গেল। গরুডি হারায়া আমি এক্কেরে নিস্ব।’— কোরবানের ঠিক আগ মুহূর্তে গোয়াল ঘর থেকে ৫টি গরু চুরির পর এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষক মনির হোসেন।
শুধু মনির নয়, একরাতে ওই উপজেলার কৃষক শাহ আলীর গোয়াল থেকেও চুরি হয়েছে ৩টি গরু।
শনিবার (১৬ মে) ভোরে উপজেলার পূর্ব সুখনগরী ও বাণিকুঞ্জ গ্রামের এই দুই কৃষকের মোট ৮টি গরু চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
দুই কৃষক জানান, পুরো বছর কোরবানি ঈদে বিক্রির আশায় গরুগুলোর লালন-পালন করেছিলেন তারা। এবারের কোরবানি ঈদে বিক্রির পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু কোরাবানির আগ মুহূর্তে হঠাৎ কে বা কারা একযোগে এই দুই কৃষকের সব গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। একরাতে ৮ গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় স্থানীয় ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল ইতোমধ্যে পরিদর্শক করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হতভাগা দুই কৃষকের মধ্যে মনির হোসেন বাড়ি উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব সুখ নগরী গ্রামে। তার গোয়াল থেকে পাঁচটি এবং পৌর এলাকার বাণিকুঞ্জ এলাকার কৃষক শাহা আলীর গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু চুরি হয়।
মনির হোসেন জানান, ঘটনার আগের দিন রাতে গোয়াল ঘরে গরুগুলো বেঁধে রাখা হয়েছিল। ভোরে তার মা গিয়ে দেখে গোয়ালঘরের দরজা খোলা। তারপর ভেতরে ঢুকে দেখেন ৫টি গরু চুরি হয়েছে।
একইভাবে বাণিকুঞ্জ এলাকার কৃষক শাহা আলী জানান, ঘটনার আগের দিন রাতে গোয়াল ঘরে গরুগুলো রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে উঠে দেখেন তার ৩টি গরু চুরি হয়ে গেছে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশিস রায় বলেন, দুইটি বাড়িতে গরু চোরের ঘটনা ঘটেছে। একটিতে পাঁচটি ও আরেকটিতে তিনটি গরু চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই কৃষক। খবর পেয়ে পর মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। গরু চুরি ঠেকাতে নিয়মিত চেকপোস্ট এবং গ্রামবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে।