ফরহাদ কবীর খান
সহকারী শিক্ষক (বাংলা )
বালিজুড়ী এফ. এম. উচ্চ বিদ্যালয় , জামালপুর ।
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা? নিশ্চয়ই ভালো। বন্ধুরা বাংলা ব্যাকরণে ‘সমাস’ একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। যা স্কুল জীবন থেকে শুরু করে চাকরীর পরীক্ষাতেও কাজে লাগে। তাই আমাদের প্রত্যাশা তোমরা সমাসের এই ধারাবাহিক আলোচনায় আমাদের সাথে থাকবে। গত পর্বে আমরা সমাসের প্রাথমিক আলোচনা করেছিলাম। আজ আমরা আলোচনা করবো এর প্রকারভেদ নিয়ে।
গত বৃহসপতিবার প্রকাশের পর
৬। বহুপদীদ্বন্দ্ব : তিন বা বহু পদ মিলিত হয়ে যদি এক পদে পরিণত হয় তবে তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: সাহেব, বিবি ও গোলাম = সাহেব-বিবি-গোলাম।
হাত,পা, নাক, মুখ ও চোখ = হাত-পা-নাক-মুখ- চোখ।
বন্ধুরা, এছাড়াও তোমরা নিজেদের মতো উদাহরণ লিখে চর্চা করতে পারো। এসো এবার আমরা দ্বিগু সমাস নিয়ে একট ুআলোচনা করি।
দ্বিগু সমাস
সমাহার (সমষ্টি ) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় ,তাকে দ্বিগু সমাস বলে ।
দ্বিগু সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষ্য পদ হয় । যেমন: তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল।
শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।
দ্বিগু সমাস নির্ণয়ের সহজ উপায়
দ্বিগু সমাসে সাধারণত প্রথম পদটি সংখাবাচক হয় এবং পর পদটি বিশেষ্য হয়। অন্যদিকে সমস্তপদটি দ্বারা সমষ্টি বা সমাহার বোঝায় এবং সমস্তপদটি একটি বিশেষ্যপদ হয়। যেমন: তিন তারের সমাহার = সেতার
নবরত্নের সমাহার = নবরত্ন।
(সূত্র: ভাষা শিক্ষা ও রচনা সম্ভার -(সম্পাদনায়) ড. মো. জাকিরুল হক মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ( সম্পাদনায় ) ড. গিয়াস শামীম । বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-
( রচনায় ) মুনির চৌধুরী ও মোফাজ্জাল হায়দার চৌধুরী এবং প্রায়োগিক বাংলা- বাওবি।)
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, সমাসের পরবর্তী পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে আমরা আগামী দিনগুলোতে প্রকাশ করবো। তাই চোখ রাখো ফেইসবুক পেইজে “বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন” গ্রুপে এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনুশীলন পাতায়। আমরা আছি তোমাদের সাথে নতুন নতুন বানান নিয়ে।