জোয়ারে মেঘনায় ভেসে গেছে পাঁচ শতাধিক মহিষ

গত দুদিন ধরে মেঘনা নদীর প্রবল জোয়ার, ঝড়ো বাতাস আর উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন চর আবদুল্লাহর দুইটি বাথান থেকে পাঁচ শতাধিক মহিষ ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার মেঘনার তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৩০০ মহিষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বাথান ও মহিষের মালিকরা জানান। আরো দেড় শতাধিক মহিষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে কোনো মহিষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বাথান মালিক মো. নুর নবী জানান, উপজেলার দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন চর আবদুল্লাহ এলাকায় ১৫ বছর ধরে আবুল কাশেমসহ দুইটি বাথানে মহিষ লালন-পালন করে আসছেন। তাদের বাথানে বিভিন্ন মালিকের প্রায় ১ হাজার মহিষ রয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানে মাটির কিল্লা তৈরি করে তারা ওই মহিষগুলো লালন-পালন করছিলেন। মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে বুধবার সন্ধ্যা থেকে মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ার ও ঝড়ো বাতাস দেখা দিলে প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ওই বাথান দুইটি থেকে পাঁচ শতাধিক মহিষ ভেসে যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বালুরচর, ঠুয়ারচর, বাংলা বাজার, আসলপাড়া, সেন্টারখাল, আদালত পাড়া ও কালিরখাল এলাকায় স্থানীয় লোকজন মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় প্রায় সাড়ে ৩০০ মহিষ উদ্ধার করেন। আরো দেড় শতাধিক মহিষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে ওই ঘটনায় কোনো মহিষ মারা যাওয়ার খবর তারা পাননি।

উপজেলা মহিষ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন মোল্লা বলেন, ওই দুর্গম চরে বিভিন্ন বাথানে প্রায় তিন হাজার মহিষ, গরু ও ভেড়া লালন পালন করা হয়। এসব গবাদি পশু রাখার জন্য সেখানে নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা নেই। বাথান মালিকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানে কিছু মাটির কিল্লা তৈরি করে গবাদি পশুগুলো রাখার ব্যবস্থা করলেও অস্বাভাবিক জোয়ারের সময় তা ডুবে যায়। এতে প্রতি বছরই গরু, মহিষ ও ভেড়া ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। উঁচু মাটির কিল্লা নির্মাণ করা গেলে এ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। এ অবস্থায় ওই চরে সরকারি উদ্যোগে উঁচু মাটির কিল্লা নির্মাণ করে গবাদি পশুর নিরাপত্তা নিশ্চত করার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ওই চরে পাঁচটি মাটির কিল্লা নির্মাণ করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পরিষদকেও দুইটি কিল্লা নির্মাণ করে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।