ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, দেশের জ্বালানি খাতে দক্ষতা ও সাহসের অভাব রয়েছে। সিদ্ধান্তহীনতার কারণে জ্বালানি খাতকে দুর্যোগ অবস্থায় নিয়ে গেছি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
গতকাল শুক্রবার কাওরান বাজারের পেট্রোসেন্টারে জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ব্রিটিশ কোম্পানি শেল ওয়েলের কাছ থেকে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে থাকা শেল অয়েলের সব শেয়ার মাত্র ৪৫ লাখ পাউন্ড স্টার্লিংয়ে (তখনকার ১৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা) কিনে নেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার। গ্যাসক্ষেত্রগুলো হলো- তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর ও কৈলাশটিলা। এ পাঁচটি ক্ষেত্রে গ্যাসের উত্তোলনযোগ্য মোট মজুদ ছিল ১৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। মজুদ গ্যাসের তুলনায় তখনকার ক্রয়মূল্য ছিল নামমাত্র। জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে স্মরণ করতে ২০১০ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে যেভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। আমরা পঁয়তাল্লিশ বছর পরে এসে তেমন সাহস দেখাতে পারছি না। আমাদের সেইভাবে সাহসি নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। কাজ করতে গেলে ঝুঁকি থাকবেই। ভালো নেতৃত্ব সেই ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে।
কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন যে ফাইলগুলো স্বাক্ষর করি তার ৬০ শতাংশই বিদেশ ভ্রমণের। আমি যখন দেখি সাত-দশ দিনের ট্রেনিং, তখন ধরেই নেই কোনো কাজে আসবে না। আমি সব সময় বলি—যারা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারা দেশে ফিরে প্রেজেন্টেশন দিবেন। কিন্তু সেটা কেউ করছেন না। তিন মাস, ছয় মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ মডেল করতে হবে। যাতে দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হয়। বিদ্যুত্ বিভাগ বছরে ২৫০০ ট্রেনিং দিচ্ছে। জ্বালানি বিভাগকেও সেভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।
জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ট্রেনিং মানে বিদেশ ভ্রমণ বা ঘোরাফেরা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক আনা হবে। এ ভ্রমণ প্রবণতা বন্ধ করা হবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, শিগগিরই সাগরে অবস্থিত ব্লকে (এসএস-৪) অনুসন্ধান কূপ খনন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে আরো তিনটি ব্লকে (এসএস-৪, এসএস-৯ ও এসএস-১১) অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে। বিপিসির চেয়ারম্যান সামছুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের উন্নয়নের কারণে ডিজেলের চাহিদা কমে যাচ্ছে। এক সময় সেচে অনেক ডিজেল লাগতো। সরবরাহে হিমশিম খেতে হতো। এখন সেই সেচ বিদ্যুতের মাধ্যমে হচ্ছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার।