ভার্সিটির জন্য ব্যক্তিমালিকানার ২৪ একর জমি অধিগ্রহণ চেষ্টা

ইস্টার্ন হাউজিং পল্লবী-২ প্রকল্পের এম এবং এন ব্লকে ব্যক্তি মালিকানার ২৪ একর জমি অধিগ্রহণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। ১৯৯৯ সালে ওই জমি প্লট বুকিং দিয়ে ২০০৭ সালে লটারির মাধ্যমে প্লট পেয়েছেন প্লট মালিকরা। এখানে প্রায় ৫০০ প্লট রয়েছে। যার মালিকানা প্রায় দুই হাজার ব্যক্তির। এর মধ্যে রয়েছেন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা তাদের জমিতে নির্মাণ অনুমোদন পাচ্ছেন না। আবার অনেকের নির্মাণ অনুমোদন আগে নেওয়া থাকলেও এখন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এনওসির কারণে রাজউক তাদের প্ল্যান অনুমোদন দিচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর অন্তত ৩০ ভুক্তভোগী চিঠি লিখে তাদের সমস্যা তুলে ধরেছেন।

প্রকল্পের এন ব্লকের প্লট নম্বর ২০/৩ এর মালিক মো. আইয়ুব আলী বলেন, ২০১৭ সালে প্লটে বাড়ি  নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছি। অথচ এখন রাজউক থেকে প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। এন ব্লকের প্লট নম্বর ৫/২/২ এর মালিক আবু তাহের বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করছে। এই কারণে রাজউক থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছেন না তারা। এম ব্লকের প্লট ৮/৯ এর মালিক মো. আশরাফুল বলেন, জীবনের শেষ সম্বল তার জমিটুকু। তাতে নির্মাণকাজ করতে পারছেন না। তিন মাস ধরে রাজউকে ঘুরছি। কোনো ছাড়পত্র পাচ্ছি না।

জানা যায়, প্লট মালিকদের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি, সামরিক কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ডাক্তার ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকাটি যথাযথ নিয়ম কানুন অনুসরণ করে গড়ে ওঠেছে। প্রকল্পটির অনুমোদন রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল স্তরের। জীবনের একটি স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে সামর্থ্য মোতাবেক প্লট ক্রয় করেছেন তারা। ইতিমধ্যে রাজউকের অনুমোদন নিয়ে অনেকে ছয়-সাত তলা ভবনও নির্মাণ করেছেন। অনেকের নির্মাণকাজ চলমান। কেউ কেউ মাটি পরীক্ষার কাজ পরিচালনা করছেন। রাস্তা ঘাট, বিদ্যুত্, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন লাইনও রয়েছে।

প্লট মালিকদের একজন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের জমি অধিগ্রহণের চেষ্টার বিষয়ে এরই মধ্যে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি করে ঢাকার জেলা প্রশাসককে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে চিঠি দিলে প্রয়োজনে আমরা আদালতে যাব।

অভিযোগকারীরা বলছেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়টি অধিগ্রহণে বলেছে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ আইনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সরকার কর্তৃক্ষ ঘোষিত হতে হবে। কিন্তু এখানে তা হয়নি। এছাড়া ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) এর নীতিমালা মোতাবেক, আবাসিক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও বর্ধিত করার কোনো সুযোগ নেই। কেবল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় করার সুযোগ রয়েছে।

ভূমি মালিকরা দাবি করছেন, এর আগে ওই বিশ্ববিদ্যালয় আরো চার একর জমি অধিগ্রহণ করেছে গোপনে। সেখানে তাদের নির্মাণকাজ চলছে।