ভোলার জেলে পরিবারে ছেঁবেনা ঈদ আনন্দ

এক মাস আগে ট্রলার ডুবিতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির প্রাণহানি ও নিখোঁজের কারণে এবারের ঈদ একদম ফ্যাকাসে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জেলে পরিবার গুলোতে। সংসার চালানোই যেখানে অসাধ্য, সেখানে ঈদ উদযাপন রীতিমত দুঃস্বপ্ন তাদের কাছে। পাশে দাঁড়ায়নি সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান, কোনো ব্যক্তি।

জানা গেছে, গত জুলাই মাসের ৬ তারিখ চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ, জিন্নাগড় ও মাদ্রাজ ইউনিয়নের ৩৩জন জেলে দুটি ফিশিং বোট নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান। বিরূপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে সাগরের কোনো এক জায়গায় ডুবে যায় ট্রলার দুটি। ৯ জুলাই একটি ডুবে যাওয়া ট্রলার গিয়ে পৌঁছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৭টি মরদেহ। জীবিত পাওয়া যায় মনির মাঝি ও জুয়েল মাঝি নামের দুইজনকে। বাকিদের সন্ধান এখনো মেলেনি। পরিবার গুলোর ধারণা তারা আর বেঁচে নেই। সংসারের হাল ধরবে কে, এমন চিন্তা গ্রাস করছে তাদের। 

প্রতি বছর এভাবে মাছ ধরতে গিয়ে ভোলা জেলার ৭ উপজেলায় অনেক জেলে প্রাণ হারাচ্ছেন, নিখোঁজ হচ্ছেন। বাড়ছে অসহায় পরিবারের সংখ্যা। কিন্তু এসব পরিবারের পাশে কখনো কেউ দাঁড়াচ্ছে না। 

আরও পড়ুন: গরুচোরদের পুলিশের ধাওয়া, গাড়ি থেকে লাফিয়ে নিহত ১

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেন জানিয়েছেন, এসব পরিবারের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ বা নির্দেশনা নেই। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাদের পাশে থাকবে ত্রাণ বিভাগ।
 
জেলামৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩ বছরে ভোলা জেলায় ১১২ জন জেলে মারা গেছেন। নিখোঁজ হয়েছে ১৫৭ জন। 

ইত্তেফাক/অনি