মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পারস্য উপসাগরে জারি করা তীব্র নৌ-অবরোধের তোয়াক্কা না করেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে ইরানের তেলবাহী চারটি বিশালাকার ট্যাংকার জাহাজ। গত সোমবার এই ইরানি জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয় বলে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈশ্বিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ও ট্র্যাকিং বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কেপ্লার’ -এর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত ১৫ এপ্রিলের পর এই প্রথম ইরানি পতাকাবাহী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ আমেরিকার কড়া নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজের চোখ ফাঁকি দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হলো।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা কেপ্লার তাদের বিশদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়া এই চারটি ইরানি ট্যাংকার জাহাজের নাম যথাক্রমে—‘হিলদা ওয়ান’, ‘দ্য আম্বার’, ‘দ্য সিলভিয়া ওয়ান’ এবং ‘হেপিনেস ওয়ান’। এই বিশালাকার জাহাজগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছিল। কেপ্লার আরও জানায়, ট্যাংকার জাহাজগুলোকে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘খার্গ দ্বীপ’ থেকে তেল দিয়ে বোঝাই বা লোড করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই খার্গ দ্বীপটি হলো ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান ও সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চল, যেখান থেকে দেশটির উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রানজিট বা সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ট্যাংকারগুলো যখন মার্কিন রণতরীগুলোর নাকের ডগা দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছিল, তখন সেগুলোর অবস্থান লুকানোর জন্য আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং সিস্টেম ‘এআইএস ট্রান্সপন্ডার’ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে দীর্ঘ সংঘাতের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে ইরানকে নিজেদের শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত চুক্তিতে রাজি করতে এবং ওয়াশিংটনের আধিপত্য বজায় রাখতে ওই সময় থেকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে মার্কিন নৌবাহিনী। অবরোধ ভেঙে ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে আসা একাধিক ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনী ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো সত্ত্বেও, ইরান যে হরমুজ দিয়ে তাদের তেল সরবরাহ বন্ধ করেনি—এই ঘটনা তারই বড় প্রমাণ।