ফুল

স্পাইডার লিলি

 

নাম শুনে বোঝা যায় মাকড়সার সঙ্গে এ ফুলের সম্পর্ক রয়েছে। ফুল মাকড়সার জালের মতো ফোটে বলে এর নাম হয়েছে স্পাইডার লিলি। ফুলের রং দুধ সাদা ও মিষ্টি সুগন্ধিযুক্ত। ফুল লম্বা ডাঁটার অগ্রভাগে ছত্রাকার মঞ্জরিতে ফোটে। ফুলের দল নল লম্বায় ১০ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার, আগায় ফিতার মতো সরু ছয়টি পাপড়ি এবং গোড়ায় কাগুজে বাটি বা মুকুটে জড়ানো থাকে। ফুটন্ত ফুল খুবই নজরকাড়া। তাই তো নানান প্রকার লিলি ফুলের মধ্যে স্পাইডার লিলি অন্যতম। প্রস্ফুটন সময়কাল মূলত বর্ষা। গ্রীষ্মের শেষ দিক থেকে ফুল ফোটা শুরু হয় আর ফুল ফোটার ব্যাপ্তি বর্ষা অবধি। বর্ষার ভেজা বাতাসে ফুলের সুগন্ধ ভেসে বেড়ায়। গ্রামের মানুষজনের কাছে ফুলটি ‘রসুন’, ‘গো-রসুন’ নামেও পরিচিত। এর পরিবার Amaryllidaceae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Hymenocallis Littoralis।

আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। তবে আমাদের দেশের প্রকৃতি-পরিবেশে এ ফুলগাছ মানিয়ে নিয়েছে। গাছ বেশ কষ্টসহিষ্ণু। কম যত্ন পরিচর্যা ও বুনো পরিবেশের মাঝেও ভালো জন্মে। সরাসরি মাটি ও টবে রোপণ উপযোগী ফুলগাছ। টবে পানি জমলে কন্দ পচে যেতে পারে, তাই সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভেজা মাটি, রোদ ও আংশিক ছায়া স্পাইডার লিলি ফুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়ক। গাছ পেয়াজকন্দীয়, গোড়ার গুচ্ছবদ্ধ পাতাসহ গাছের উচ্চতা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার হয়। গাছের কাণ্ড দেখতে অনেকটা কাঠকচুর মতো। পাতা বেশ পুরু, রং গাঢ় সবুজ, চওড়ায় চার থেকে আট সেন্টিমিটার এবং লম্বায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার। তাছাড়া পাতা দেখতে অনেকটা আনারস গাছের পাতার মতো। তবে আনারস গাছের পাতার মতো শক্ত ও কাঁটাযুক্ত নয়। স্পাইডার লিলির পাতা মসৃণ ও নরম হয়।

কন্দ ও কন্দ চারার মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়ে থাকে। এর চারা কোনো জায়গায় একবার লাগানো হলে সেখানে দ্রুত গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে খুবই কম সময়ের মাঝে ঝোপ আকার ধারণ করে। রয়েছে ভেষজগুণ। লিভারের চিকিত্সায় এ গাছের কন্দ ব্যবহার হয়। আর অতিমাত্রায় কন্দ আহরণের ফলে  গ্রামের বন-বাদাড় থেকে দিন দিন এ গাছ কমে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে এর জনপ্রিয়তার ফলে সুগন্ধি এই ফুল স্থান করে নিয়েছে ফুলপ্রেমীদের বাসা-বাড়ির বাগান, ছাদবাগানের টবে, বারান্দায়, অফিস, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগান, পার্ক ও উদ্যানে।