মোবাইলের লেন্সে নতুন ঢাকা: স্ট্রিট ফটোগ্রাফিতে লাইকার ছোঁয়া

ঢাকার বৃষ্টিভেজা গলি, রাস্তার ধারে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া, টংয়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ, রেলস্টেশনের ব্যস্ততা, রিকশার হাঁকডাক, ঢাকার এই নিত্যদিনের ব্যস্ততা উঠে আসছে স্মার্টফোনের ক্যামেরায়। এ যেন ঢাকার কোলাহলপূর্ণ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ফ্রেমে বন্দী করার প্রচেষ্টা।

এই স্ট্রিট ফটোগ্রাফি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চিরায়ত ফটোগ্রাফি স্টাইল থেকে ধীরে ধীরে ভিজ্যুয়াল গল্প বলার দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। রাস্তার ধারে ঝাঁক বেধে বেড়ে ওঠা বাগানবিলাস, তার নিচে ভরদুপুরে চিকন একটি লাঠি হাতে হেঁটে যাচ্ছে পথশিশু। এই স্থিরচিত্র মানুষের অনুভূতিকে নাড়া দেয়। ক্রিয়েটররা স্ট্রিট ফটোগ্রাফির জন্য পরিবেশ, আলো, বাস্তবতা ও মানবীয় অনুভূতির ওপর গুরুত্বারোপ করে, যেখানে প্রতিটি ক্লিক একেকটি করে গল্প বলে।

স্ট্রিট ফটোগ্রাফির বেশিরভাগই ইদানিং মোবাইল ফোনে করা হয়। কেননা, এটা বহনে সহজ, সাশ্রয়ী ও সবসময় সাথে রাখা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন ৮০.৮ শতাংশ মানুষ। ফলে, তরুণ ও ফটোগ্রাফিপ্রেমীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে স্ট্রিট ফটোগ্রাফিতে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১৬.৫ শতাংশ ব্যবহারকারী মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন ছবি ও ভিডিও ধারণ করার জন্য।

ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে গল্প বলার একটি ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। এখানে ক্রিয়েটর তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ভিজ্যুয়াল দিয়ে অনুপ্রাণিত হন। পড়ন্ত বিকাল, গোধূলির আলো, পূর্ণিমা রাত, গাছের পাতায় পড়ে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা, সবুজ মাঠ, রাতের আলো-আঁধারিকে ক্যামেরায় ধারণ করে ক্রিয়েটর তার গল্প ফুটিয়ে তুলতে চান।
 
স্ট্রিট ফটোগ্রাফি ও ডকুমেন্টারির সাথে লাইকার ভিশনের বিস্তর মিল রয়েছে। জার্মান এই প্রযুক্তি স্ট্রিট ফটোগ্রাফি ও ডকুমেন্টারি ধারণ করার ক্ষেত্রে অনবদ্য। বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে লাইকা দিয়ে ছবি তুলে মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিখ্যাত আলোকচিত্রীরা। কার্তিয়ে-ব্রেসো বা ব্রুস গিল্ডেনের মতো বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রীরা লাইকা ব্যবহার করেছেন এর নিখুঁত টোনের সাথে দ্রুত ছবি তোলার সক্ষমতা ও ছবির বাস্তব রূপ ফুটিয়ে তোলার সক্ষমতার জন্য।

লাইকার মূল লক্ষ্য ছবিকে অতিমাত্রায় প্রসেসড না করে এর প্রাকৃতিক কনট্রাস্ট, মানবীয় মুহূর্ত, সিনেমাটিক ভাইব, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি ও আবেগ দিয়ে স্টোরি টেলিং ধরে রাখা। ব্রেসো লাইকাকে বলতেন তার চোখের বর্ধিত অংশ, যা দিয়ে তিনি চলমান মুহূর্তগুলোকে ধারণ করতেন।  

বর্তমানে, তরুণরা টেকনিক্যাল পারফেকশন বা অতিমাত্রায় প্রসেস করে ছবির বাস্তবিকতা পরিবর্তন করতে চায় না; বরং, তারা ছবির টোন, অ্যাটমোস্ফিয়ার, ন্যারেটিভের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যেখানে ছবির মাধ্যমে ক্রিয়েটর তার অনুভূতি সবার সামনে তুলে ধরে। ব্যবহারকারীদের কাছে প্রফেশনাল গিয়ারের তুলনায় স্মার্টফোনে এই ফটোগ্রাফি করা সাশ্রয়ী ও সহজ। 

লাইকা ও শাওমির মেলবন্ধন স্মার্টফোনে স্ট্রিট ফটোগ্রাফি ও ডকুমেন্টারি করার অভিজ্ঞতাকে ব্যবহারকারীদের জন্য আরও বেশি অনন্য ও সমৃদ্ধ করে তুলেছে। এতে করে ফটোগ্রাফিপ্রেমীরা লাইকার মতো ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফির সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি, অনবদ্য অভিজ্ঞতাও উপভোগ করতে পারবেন।