“এআই-এর অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র্যালি”—এই প্রতিপাদ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক অলাভজনক কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম দি এআই কালেকটিভ-এর স্থানীয় শাখা শনিবার (৬ জুন) ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স—এআই) প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার ও উন্নয়ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি র্যালির আয়োজন করে।
এই র্যালিটি বৈশ্বিক উদ্যোগ “হিউম্যানস ইন এআই উইক”-এর অংশ, যা দি এআই কালেকটিভ-এর উদ্যোগে ১ থেকে ৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি দেশের ২০০টিরও বেশি শহরে একযোগে উদযাপিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষকে একত্রিত করে এআই-এর দ্রুত বিকাশমান যুগে প্রযুক্তিকে কীভাবে গ্রহণ, ব্যবহার, এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং এগিয়ে যাওয়া যায়—সে বিষয়ে আলোচনা, মতবিনিময় ও উপলব্ধির সুযোগ তৈরি করা হয়। এ বছরের মূল প্রশ্ন ছিল—“এআই-এর যুগে মানুষ হওয়া বলতে কী বোঝায়?”
র্যালিতে অর্ধশতাধিক অংশগ্রহণকারী অংশ নেন, যাদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষার্থী, প্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, ব্যাংকার, উদ্যোক্তা এবং এআই অনুশীলনকারীরা। অংশগ্রহণকারীরা এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার ও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাদের আলোচনায় উঠে আসে—শিক্ষাক্ষেত্রে প্লেজিয়ারিজম (নকল করা), ব্যবসায় এআই-এর ওপর অতিনির্ভরতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার, কর্মসংস্থানের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং কিছু ক্ষেত্রে এআই-এর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার।
এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল—
“আমাদের পৃথিবী, আমাদের নিয়ম—মেশিনের নয়”,
“আমার চাকরি, আমার জীবিকা—এআই-এর কারণে কেন ছাঁটাই?”,
“ক্লিক করার আগে ভাবুন”,
“পড়াশোনায় এআই নির্ভরতা নয়”,
“এআই সহায়ক, বিকল্প নয়”,
“শিশুরা শিখবে প্রকৃতি ও পরিবেশ থেকে, স্মার্টফোন থেকে নয়”—ইত্যাদি।
এসব বার্তার মাধ্যমে তারা এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল, নৈতিক ও সচেতন ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এর সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মত প্রকাশ করেন যে, এআই-ভিত্তিক সিস্টেমের উন্নয়ন ও ব্যবহার অবশ্যই নৈতিক, দায়িত্বশীল এবং মানবকেন্দ্রিকভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা যায় এবং এর সুফল সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
দি এআই কালেকটিভ বাংলাদেশ চ্যাপ্টার-এর চ্যাপ্টার লিড মোহাম্মদ আসিফ বাংলাদেশের খসড়া এআই নীতি দ্রুত চূড়ান্ত ও অনুমোদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
এআই বিশেষজ্ঞ এবং দি এআই কালেকটিভ বাংলাদেশ চ্যাপ্টার-এর সদস্য খ. এহসানুর রহমান বলেন, “এআই এমনভাবে উন্নয়ন ও ব্যবহার করা উচিত, যা মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, আস্থা রক্ষা করে এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে। ভবিষ্যৎ এআই বনাম মানুষের নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে মানুষ ও এআই-এর একসঙ্গে কাজ করার।”
শান্তিপূর্ণ এই র্যালিটি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট সড়ক ও দোয়েল চত্বর অতিক্রম করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-তে এসে শেষ হয়। এই র্যালি আয়োজনের সহযোগিতা করেছে লুজলি কাপলড টেকনোলজিস এবং টেক এন ট্যালেন্টস।