৭২-এর সংবিধান নিয়ে ‘অতিকথন’ রয়েছে: আসিফ নজরুল

১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে সমাজে ‘অতিকথন’ রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। 

তার মতে, পৃথিবীর কোনো সংবিধানই নিখুঁত নয়। সংবিধান নিজে কোনো পাপ করতে পারে না। প্রতিটি সংবিধানে ভালো ও মন্দ দুটোই থাকে।

সোমবার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।

স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে আমাদের সমাজে অতিকথন রয়েছে। কারও কাছে এটি বেদবাক্য, আবার কারও কাছে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার মতো কিছু। অথচ বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর কোনো সংবিধানই নিখুঁত নয়।’

‘প্রতিটি সংবিধানে ভালো ও মন্দ দুটোই থাকে। আমরা প্রায়ই এটা বুঝি না, কিংবা বুঝতে চাই না,’ যোগ করেন তিনি।

‘এটাও আমরা বুঝি না যে, সংবিধান নিজে কোনো পাপ করতে পারে না’ উল্লেখ করে ঢাবির আইন বিভাগের এ অধ্যাপক বলেন, ‘একই সংবিধান নিয়ে ভারতে গুজরালও (সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্র কুমার গুজরাল) শাসন করেছে, মোদিও (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) করছে।’

‘আবার সংবিধানহীন ব্রিটেনে সুশাসন এসেছে’—জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘সেরা সংবিধানের মালদ্বীপ সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রের সাফল্য বা ব্যর্থতার একমাত্র কারণ তাই সংবিধান নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও নেতৃত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

তাই শুধু আবেগ নয় ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং রাষ্ট্রনির্মাণে তার ভূমিকা নিয়ে নির্মোহ পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করেন আসিফ নজরুল। 

তার মতে, ‘সেটা করতে হলে ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণীত হয়েছিল যে গণপরিষদে তাকে বুঝতে হবে। জানতে হবে কি বিবেচনায় কী বিধান এসেছিল সংবিধানে, কোন প্রস্তাব কীভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল গণপরিষদে। কেমন ছিল সদ্যস্বাধীন দেশের গণপরিষদের নতুন রাষ্ট্রচিন্তা।’

নিজের বই ‘সংবিধান বিতর্ক ১৯৭২’ সেই তাড়না থেকে লিখেছিলেন—উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা স্ট্যাটাস বলেন, ‘আমি উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে বইটির দ্বাদশ মুদ্রণ প্রকাশিত হয়েছে। আমার আরও কয়েকটি বই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে, কিন্তু এই বইটির নতুন মুদ্রণের খবর শুনলে আলাদা একটা আনন্দ অনুভব করি।’