জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে রাজিব পরিবহনের এক বাসচালককে কাউন্টার মাস্টারের মারধর এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মাদারগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে শ্রমিকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ ও মাদারগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এই কর্মসূচি শেষে বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনিদিষ্টকালের বাস ধর্মঘটের ডাক দেয়।
ফলে শত শত বাস যাত্রীরা বাস না পেয়ে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছে।
জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যার দিকে ঢাকাগামী ‘রাজিব পরিবহনের’ একটি বাস গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এনপুর বাজারে পৌঁছালে পূর্বের বিরোধ নিয়ে কাউন্টার মাস্টার শফিকুল ও রহমতুল্লাহ বাসচালক মমিনুলকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এসময় উপজেলা ছাত্রহল কর্মী বিজয় আহমেদ এগিয়ে এসে বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলায় উপস্থিত থাকা গুনারীতলা ইউনিয়নের বিএনপির প্রচার সম্পাদক সোহেল রানার সঙ্গে তর্ক হয়৷ তর্কের এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা সোহেল রানা ক্ষিপ্ত হয়ে োরালো অস্ত্র দিয়ে বিজয়কে এলোপাথাড়ি কোপ দেয়। পরে আহত বিজয়কে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাসচালককে মারধর ও ছাত্রহল কর্মীকে কোপানোর প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে রোববার থেকে মাদারগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সব বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে সোমবার দিনভর অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মাদারগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে শ্রমিকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বাস চলাচল বন্ধ রাখে। এ সময় তারা মাদারগঞ্জ জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
মাদারগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ মাখন বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্ত আসামী কে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালে জন্য বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
মাদারগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) কমল চন্দের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা যেন অবনতি না হয় সে জন্য বাস টার্মিনালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের সাথে কথা বলে মঙ্গলবার থেকে বাস চলাচল শুরু করা হবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানা এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মুঠোফোনে দাবি করেন, ‘কাউন্টার মাস্টারের সঙ্গে বাসচালকের মারামারির কারণে বাসটি প্রধান সড়কের মাঝখানে আড়াআড়িভাবে থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। আমি একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে বাসটি রাস্তার সাইড করার জন্য বললে ছাত্রহল নেতা বিজয় আমার সঙ্গে চরম খারাপ ব্যবহার করে এবং একপর্যায়ে শত শত মানুষের সামনে আমাকে প্রকাশ্যে চড় মারে। বিজয় বয়সে আমার অনেক বছরের জুনিয়র হওয়ায় তার এমন ধৃষ্টতা ও থাপ্পড়ে আমি নিজের মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে কুপিয়েছি।’