মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ের তাণ্ডবে অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে, যার ফলে মহাসড়কের প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, প্রবল বাতাসের সঙ্গে শুরু হওয়া ঝড় ও বৃষ্টি প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় ঘন ঘন বজ্রপাতের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০টির বেশি গাছ উপড়ে যায়। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৩০টি গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। অনেক গাছ বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ ভূঁইয়া জানান, দীর্ঘ সময় ধরে চলা বজ্রপাত ও ঝড়ের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
মহাসড়কে গাছ পড়ে যাওয়ার কারণে বিকেল থেকেই যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে গজারিয়া অংশজুড়ে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রী ও চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে।
ঢাকাগামী এক বাসযাত্রী বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে একই স্থানে আটকে আছেন তিনি। অন্যদিকে কুমিল্লাগামী এক ট্রাকচালক জানান, মেঘনা সেতু পার হওয়ার পর থেকেই যানজটে পড়েছেন এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গাছ পড়ে থাকতে দেখেছেন।
গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ কামাল আকন্দ জানান, ঝড়ের মধ্যেই হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল আংশিক স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রামমুখী লেন থেকেও গাছ সরানোর কাজ চলমান রয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর গজারিয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক তারের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়ায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত ও বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগে কর্মীরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।