দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে রাজস্ব ব্যবস্থার আওতায় আনতে ভ্যাট নিবন্ধনের নিয়ম আরও কঠোর করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়, এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে।
আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক টার্নওভারের সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ লাখ টাকায় নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে বছরে ২০ লাখ টাকার বেশি লেনদেনকারী ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে। এ হিসাবে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করা ছোট ব্যবসায়ীরাও ভ্যাটের আওতায় চলে আসবেন।
এনবিআরের লক্ষ্য, দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসাকে রাজস্বের মূলধারায় যুক্ত করা এবং ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়িয়ে ২০ লাখে উন্নীত করা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য মাসিকের পরিবর্তে প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের প্রশাসনিক ঝামেলা কমে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, লেনদেনগুলো ডিজিটাল বা ক্যাশলেস পদ্ধতিতে সম্পন্ন হলে সেগুলো কর ব্যবস্থায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে। পাশাপাশি জনগণের হয়রানি কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন (ভ্যাট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নামে জমি বা যানবাহন নিবন্ধন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ গ্রহণ এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে মার্চেন্ট বা পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতেও বিআইএন প্রয়োজন হবে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে ভ্যাট আদায় ও জমার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হিসাবরক্ষণ সহজ করতে প্রায় দেড় দশক পর আবারও প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।