রাতে পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে আপত্তিকর অবস্থায় বিএনপি নেতা আটক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে একান্তে সময় কাটাতে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় শফি সিকদার নামে এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে গণধোলাই দিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দুজনের সম্মতিতে বিয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার (৮ জুন) রাত ১২টার দিকে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ওই নারীর বাড়ি ঘেরাও করে বিএনপি নেতা শফি সিকদারকে আটক করেন।

আটক শফি সিকদার একই ওয়ার্ডের কটামারা গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে এবং তিনি বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ জুন) শফি সিকদারকে দল থেকে বহিষ্কার করে উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনালিয়া গ্রামে ওই নারীকে বিয়ের কয়েক মাস পর ডিভোর্স দিয়ে স্বামী সৌদি আরব চলে যান। এরমধ্যে কটামারা গ্রামের দুই সন্তানের জনক বিএনপি নেতা শফির সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শফিক প্রায় রাতেই ওই নারীর বাড়ি আসেন। বিষয়টি এলাকার লোকজনের নজরে আসে। সোমবার রাতে স্থানীয়রা ওই নারীর আশপাশে গোপনে পাহাড়ার ব্যবস্থা করেন। রাত ১১টার দিকে শফি ওই নারীর ঘরে ঢুকলে ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় লোকজন রাত ১২টার দিকে বাড়ি ঘেরাও করে তাদের আটক করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও শতাধিক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। এসময় তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে মির্জাপুর বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এছাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আল আজাদসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন। পরে শফিক ও ওই নারীর সম্মতিতে ৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন করেন এবং তাদের উদ্ধার করেন।

অপরদিকে এই খবর পেয়ে শফিকের আগের স্ত্রী ও সন্তানরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বেদম মারপিট করেন। পরে শফিকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মির্জাপুর বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বলেন, জনতার হাতে আটকের খবর শুনে শতশত নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে যান। পরে রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে মীমাংসার প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা চলে আসেন বলে জানান।