মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী ও সহকারী টড ব্লাঞ্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি এর আগে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্ল্যাঞ্চের এই মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখন সিনেটে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। ফেডারেল আইন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন কোনো দায়িত্বের মেয়াদ সাধারণত ২১০ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। গত এপ্রিল মাসে পাম বন্ডি পদত্যাগ করার পর থেকে ব্ল্যাঞ্চ ৬৭ দিন এই পদে আসীন রয়েছেন। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে ও নিজের অনুগত প্রার্থীকে স্থায়ী পদে বসাতে ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্ল্যাঞ্চের এই মনোনয়ন নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বছরে মার্চে ৫২-৪৬ ভোটে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিশ্চিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরের মধ্যেই তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে জেফ্রি এপস্টেইন মামলা পরিচালনা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার (আইআরএস) সাথে বিতর্কিত নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার ভূমিকা কঠোর সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গায় জড়িতদের বিষয়ে তার অস্পষ্ট অবস্থান তাকে বিতর্কিত করে তুলেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত ব্ল্যাঞ্চ এর আগেও ট্রাম্পের বিভিন্ন আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে স্টর্মি ড্যানিয়েলস সংক্রান্ত মামলায় যখন ট্রাম্প প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হন, তখন তার আইনি পরামর্শক দলের অংশ ছিলেন ব্ল্যাঞ্চ। বর্তমান দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছেন বলে অভিযোগ ডেমোক্র্যাট নেতাদের। -সিএনএন