স্পোর্টস রিপোর্টার
অবশেষে শেখ কামালের একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আবাহনী ও শেখ কামাল প্রায় সমার্থক। তার পুরো নাম ছিল শেখ কামাল উদ্দিন। তার হাত ধরে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে গড়ে উঠেছিল আবাহনী নামের একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের খেলাধুলায় আধুনিকতার প্রবর্তকও বলা হয়ে থাকে তাকে। তার আধুনিক চিন্তাভাবনার কথাগুলো এখনও ক্রীড়া সংগঠকরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। শুধু আবাহনী নয় তত্কালীন সময়ে দেশের অনেক ক্লাব সংগঠনকে শক্ত মজবুত স্থানে তুলে আনতে নীরবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নিয়ে ভাবতেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শেখ কামাল। খেলাধুলা, গান, নাটক, অভিনয়, নানা জায়গায় বিচরণ ছিল এই সব্যসাচী ব্যক্তিত্বের। শেখ কামালের নিজের হাতেগড়া আবাহনী এখনও দেশের সেরা ক্রীড়া সংগঠন। তার স্বপ্ন ছিল ক্রীড়া কমপ্লেক্স করবেন। বিদেশ হতে কোচ এনে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন সেই সত্তরের দশকেই। ছেলে কিংবা মেয়ে সবাই খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ নেবে। ইউরোপীয় আদলে গড়ে উঠবে ক্রীড়া কমপ্লেক্স। যা হতে দেশের ক্রীড়াঙ্গন সুফল ভোগ করতে পারবে।
শেখ কামাল খেলোয়াড়দের থাকার জন্য আবাসন ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। খেলোয়াড়রা মাঠের পাশে থাকবে। মাঠে অনুশীলন করবে সেখানেই তাদের থাকা খাওয়ার আধুনিক ব্যবস্থা থাকবে। মাঠের পরিবেশে ধরে রাখতে দুই তলা ভবনের গাঁথুনি দিয়ে প্রথম ধাপে একতলা ভবনের কাজ শুরু হয়। তখন শেখ কামাল ছিলেন আবাহনীর সভাপতি। নির্মাণকাজ চলছিল। আবাহনীর ম্যানেজার সুভাষ সোম বললেন, ‘কামাল আবাহনীকে উপমহাদেশের সেরা সংগঠন হিসেবে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে ক্লাবের সভাপতি কামাল ভাই নিজেই বর্তমান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি বেঁচে থাকতেই মাটির নিচ থেকে পিলার উপরে ওঠে গিয়েছিল।’
কিন্তু কেউ জানত না ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের রাতই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের শেষ রাত। সেই রাতে বাবা, মা, ভাই, স্ত্রীসহ বুলেটের আঘাতে প্রাণ দেন শেখ কামাল। শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষটির। পিছিয়ে যায় দেশের ক্রীড়াঙ্গন। থমকে যায় আবাহনীর পথচলা। শেখ কামালের হাতের ছোঁয়ায় গড়ে উঠা আবাহনীকে ফুটবল মাঠে নামার আগে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হতো। জার্সি গায়ে দেয়ার জায়গাটুকুও ছিল না আতঙ্কের কারণে।
সময়ের স্রোতে জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা আবাহনীকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করা আবাহনী এখন মহীরুহ। বছরের পর বছর আলোচনায় থাকা শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বাস্তবতার প্রয়োজনে ভেঙে ফেলতে হচ্ছে আবাহনীর বর্তমান ভবন। এরই মধ্যে ভবনটি খালি করা হয়েছে। খেলোয়াড়রা আবাসিক ক্যাম্প করছেন মাঠের পূর্ব দিকে গড়ে উঠা সাদা রংয়ের একতলা নতুন ভবনটিতে। বর্তমান ফুটবলাররা জানেন না, যে ভবনটি সরিয়ে ফেলা হবে সেটিতে জড়িয়ে আছে কত ইতিহাস। বৈরী আমলগুলোর কোপানলে পড়ে কতবারই না আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল এই ভবন। মাঠে ফুটবল খেলায় গন্ডগোলের রেশ ধরে গ্রেফতার হয়েছিলেন আবাহনীর ফুটবলাররা। নিজেরা যুগ্নচ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করায় সাসপেন্ড হয়েছিলেন আবাহনীর অধিনায়ক।
দেশের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের আবাসন ছিল বর্তমান ভবনে। ক্রীড়াবিদ, সংগঠক, সমর্থকরা তত্কালীন সময়ে আবাহনীর ভবন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। ফুটবলের সোনালী অধ্যায়ের অর্ধেকেরও বেশি খেলোয়াড় এই আবাহনীর জার্সি গায়ে মাঠে দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন। অনেক স্মৃতির সেই ভবন সরিয়ে নতুন নির্মাণকাজ শুরু হবে শিঘ্রই।