ঢাকা এখন ফাঁকা

ইত্তেফাক রিপোর্ট 

পরিবার-পরিজন সঙ্গে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী। ফলে শহরের বেশির ভাগ এলাকায় এখন মানুষের উপস্থিতি কম। তবে বেসরকারি কর্মজীবীদের মধ্যে এখনও যারা শহরে অবস্থান করছেন, তাদের অনেকেই গ্রামের বাড়ি যেতে ছোটাছুটি করছেন কমলাপুর রেলস্টেশন কিংবা বাস টার্মিনালগুলোতে। গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

আরামবাগ থেকে যশোর-খুলনার উদ্দেশে কিছুক্ষণ পরপর ছেড়ে যাচ্ছে যাত্রীবাহী বাস। এমনই এক বাসের যাত্রী রফিকুল আলম। বেসরকারি একটি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি করেন। পরিবহনে উঠার আগে আলাপকালে তিনি বলছিলেন, ‘আজও আমাদের অফিস করতে হয়েছে। ঈদের পর বেশি ছুটি কাটাব বলে ঈদের আগে ছুটি নেয়নি। বাসার সবাই অপেক্ষা করছে। তবে ঈদের সময়ের দুর্ঘটনা নিয়ে শঙ্কিত। এবার আমরা যেন এটি থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। আর পথের ভোগান্তি তো আছেই।’

ক্রমেই ঢাকা ফাঁকা হতে থাকলেও বসুন্ধরা, মৌচাক, পল্টন, বেইলি রোডসহ মার্কেট প্রধান কয়েকটি এলাকায় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের আগের শেষ সময়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। তাদের একজন রোকেয়া আলী জানান, শনিবার রাতের গাড়িতে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। তাই শেষ সময়ে সন্তানদের বাকি কেনাকাটা শেষ করতে এসেছেন। কোরবানি ঈদে খুব একটা কেনাকাটা না হলেও এবার কিনেছেন।

মার্কেট ছাড়াও রিকশা, পাবলিক বাস কিংবা নিজস্ব পরিবহনে অনেকেই ছুটছেন মহাখালী, গুলিস্তান, আরামবাগ, সায়েদাবাদ ও গাবতলীসহ বেশ কিছু বাসস্ট্যান্ড ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে। কবির হোসেন জানালেন, সঙ্গে টিকেট আছে ঠিকই। কিন্তু ট্রেনে ভিড় ঠেলে উঠতে না পারলে টিকেট থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে যেতে হতে পারে। তাই এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই কমলাপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন তিনি। শেষ মুহূর্তে ট্রেনে উঠতে না পারলে বাসেই যাবেন, এমন প্রস্তুতি রেখেছেন।

ঘরেফেরা কিছু মানুষের চোখে-মুখে দেখা গেছে শঙ্কা আর চিন্তার ছাপ। তেমনই একজন জামিল হোসেন। তিনি জানান, ঢাকাতে ডেঙ্গুর আতঙ্ক। গায়ে কিছুটা জ্বর বোধ করছি। কিন্তু ডেঙ্গু ধরা পড়েনি। তাই টিকিট কাটা থাকলেও সঠিক তারিখে বাড়ি ফেরা হয়নি। তবু আজ জ্বর নিয়েই ফিরছি। ঈদে কাটা পথে বাড়ি ফেরার ঝক্কির তো আর শেষ নেই! এসব ঝক্কি পোহায়েই বাড়ি ফিরতে প্রস্তুতি নিয়েই নেমেছেন তিনি।’

দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা রাজধানীর দৃশ্যপটও আমূলে পাল্টে যেতে শুরু করে। শহরের যেসব ব্যস্ততম সড়কে ট্রাফিক পুলিশকে ঘাম ঝরাতে হয়, সেসব সড়ক অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে। ফলে খুব বেশি প্রয়োজন পড়ছে না ট্রাফিক পুলিশের। অন্যদিকে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটতেও সময় লাগছে কম। শাহবাগ থেকে মগবাজার আসার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কাদের মোল্লা বলেন, ‘আগে যেখানে শাহবাগ থেকে এখানে (মগবাজার) আসতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দরকার হতো, সেখানে আজ মাত্র ১১ মিনিটে পৌঁছালাম।’ গত শুক্রবার ঢাকা ছেড়েছেন অনেকেই। বাকিরাও রবিবারের মধ্যে নিজ নিজ বাড়ি ফিরবেন। তাই জনসমুদ্রের ঢাকা শহর এখন ফাঁকা নগরীতে পরিণত হয়েছে।