কক্সবাজারে পরকীয়ার সন্দেহে বাসায় ঢুকে সানজিদা হক রেশমা (৩৫) এক নারীকে ছেলের সামনে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১০ জুন) রাতে দলবল নিয়ে বাসায় ঢুকে ১২ বছর বয়সী ছেলের সামনে তার মাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।
নিহত সানজিদা হক রেশমা কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলী এলাকার ঠান্ডা মিয়ার মেয়ে ও তসলিম উদ্দিন ইমনের সাবেক স্ত্রী। তিনি সন্তান নিয়ে পৌরসভার টেকপাড়া জনতা সড়কের বিসমিল্লাহ ভবনে থাকতো।
বাসার ভেতরে হামলার পর গুরুতর অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শেষ রাতের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার দিয়াকুল এলাকার বদিউল আলমের মেয়ে শফিউল আলমের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩৫), তাদের বড় মেয়ে তানিশা সুলতানা (১৯) ও ছোট মেয়ে (১৮ বছরের কম বয়স হওয়ায় নাম প্রকাশ করা হয়নি)। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদরের পেশকার পাড়ায় বাস করেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রেশমা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুদি দোকানী শফিউল আলম সওদাগরের দোকান থেকে বাজার করতেন। এ সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি জেনে ব্যবসায়ী শফির বাসায় পারিবারিক কলহ হয়। বুধবার রাতে শফিউল আলম সওদাগর আরেও একজনসহ রেশমির বাসায় অবস্থান করছিল। এ খবর জেনে স্ত্রী ইয়াসমিন তার মেয়ে এবং আরও কয়েকজন নারীকে নিয়ে বুধবার রাতে সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সানজিদার ওপর হামলা চালান।
ঘটনার সময় বাসায় থাকা রেশমার ছেলে সাব্বিরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। আর গুরুতর আহত সানজিদাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন রেশমার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে সাব্বির (১২) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ঘটনার সময় সে ও তার মা বাসায় ছিলেন। এসময় বাসায় শফিউল আলম সওদাগর আরেকজন অবস্থান করছিল। পরে কয়েকজন নারী বাসায় ঢুকে তার মায়ের ওপর হামলা চালায় এবং ছুরিকাঘাত করে।
নিহতের বাসায় কাজ করা আনোয়ারা অভিযোগ করেন, পূর্বের পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকজনের প্ররোচনায় সংঘবদ্ধভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশকে অবহিত করে আহত সানজিদাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করেন। নিহতের নিকট আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয়রাই উদ্ধার কার্যক্রমে এগিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
হাসপাতালে নিহতের সাবেক স্বামী বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রেশমার সঙ্গে শফিউল আলম সওদাগরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন। এ সন্দেহের জেরে ইয়াসমিন তার মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে রেশমার বাসায় যান। সেখানে রেশমার সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইয়াসমিন ছুরিকাঘাত করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও বলেন, আহত অবস্থায় রেশমাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।