পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পরে টমটমে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে অভিযুক্তদের মারামারির ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহাসনাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম লিপি বেগম।
লিপি বেগম চরহাসনাবাদ এলাকার সিরাজ চৌকিদার বাড়ির শাহজামালের স্ত্রী ও গলাচিপা উপজেলার চর-শিপা গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের কন্যা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহজামাল ও মোসলেম মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা যায়, বুধবার সকালে চরহাসনাবাদ এলাকা দিয়ে একটি টমটমে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লিপি বেগমকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা। এ সময় লিপি বেগম চিৎকার করলে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং টমটমটি থামান। স্থানীয়রা বাধা দিলে শাহজামাল ও তার বাবা মোসলেম মৃধা স্থানীয়দের সঙ্গে মারামারি জড়ায়। হেলাল নামের একজনের মাথা ফাটিয়ে দেয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা লিপি বেগমকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অন্যদিকে শাহজামাল ও মোসলেম মৃধাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
হেলাল মৃধা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লিপি বেগমের ওপর পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা দেখে আসছেন। সকালে তাকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি বাধা দিতে গেলে শাহজামাল ও তার বাবা আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে আমি হাসপাতালে ভর্তি হই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহজামালের বড় ভাই নুরুজ্জামান ভোলা জেলায় পুলিশে কর্মরত থাকায় সবাইকে ভয়ভীতি দেখাতেন। তাই কেউ মামলা-হামলার ভয়ে কাছে যেত না।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ লিপি বেগম জানান, আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। আমার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে অনাহারে জীবনযাপন করি। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমার ভাসুর পুলিশে চাকরি করেন বলে তার ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে আমার পরিবারকে দূরে রাখা হয়েছে। তারা মামলা-হামলার ভয়ে কেউ কাছে আসে না।
তিনি আরও বলেন, সকালে আমাকে মারধর করার পর হাত-পা বেঁধে টমটমে করে কোথায় নিয়ে যেত তা আমি জানি না। আমি চিৎকার করায় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে এবং আমাকে উদ্ধার করে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত শাহজামাল বলেন, আমি দুটি বিয়ে করেছি। লিপি আমার প্রথম স্ত্রী। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এটা সত্যি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। তবে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।
শ্বশুর মোসলেম মৃধা বলেন, আমার পুত্রবধূকে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
দশমিনা থানা ওসি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী লিপির স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেব।

