অর্থাভাবে থেমে গেছে চিকিৎসা

ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত শান্তর বাঁচার আকুতি

সাধারণ চোখের সমস্যা দিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার এক মেধাবী শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এখন জীবন বাঁচাতে জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে শান্ত চন্দ্রশীল। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে এক বুক অনিশ্চয়তা আর মৃত্যুর আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটছে তার ও তার পরিবারের।

শান্ত চন্দ্রশীল গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের উত্তর বড় চর কাজল গ্রামের বাসিন্দা বাদল চন্দ্রশীলের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে শান্তর চোখে প্রথম সমস্যা দেখা দেয়। সে যেকোনো জিনিস বা বস্তুকে দ্বিগুণ (ডাবল) দেখতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শে তার মস্তিষ্কের এমআরআই পরীক্ষা করানো হলে ধরা পড়ে এক নির্মম সত্য—ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত শান্ত।

এরপর রাজধানীর জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা চলে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে দ্রুত বিশেষ থেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, শান্তকে মোট ৬টি বিশেষ থেরাপি দিতে হবে। প্রতিটি থেরাপির খরচ প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে শান্তর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শান্তর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তার বাবা বাদল চন্দ্রশীল একটি ছোট সেলুন চালিয়ে কোনোমতে সংসার পরিচালনা করেন। ছেলের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ইতিমধ্যেই পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে।

অশ্রুসজল চোখে শান্তর বাবা বাদল চন্দ্রশীল বলেন, 'ছেলের চিকিৎসার জন্য জীবনের জমানো সব টাকা শেষ করেছি। ব্যাংক থেকেও ঋণ নিয়েছি। সামান্য সেলুনের আয় দিয়ে এখন সংসার চালানোই দায়, সেখানে এত বড় চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার আর নেই। ডাক্তার বলেছেন এই থেরাপিগুলো দিতে পারলে আমার ছেলেটা আবার সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু টাকার অভাবে আজ চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলেকে এভাবে মরতে দিতে চাই না।'

শয্যাশায়ী শান্ত নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, '৯ মাস আগে চোখে ডাবল দেখা দিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছিল। এখন মাথার ভেতরে সারাক্ষণ জ্বালাপোড়া করে, রাতে ঘুম হয় না, শুয়ে থাকলেও প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়। ডাক্তার দ্রুত থেরাপি নিতে বলেছেন। কিন্তু আমাদের তো সামর্থ্য নেই। আমি আবার সুস্থ হয়ে পড়াশোনা করতে চাই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আমি বেঁচে থাকার আকুতি জানাচ্ছি।'

এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের কাছে শান্ত একজন অত্যন্ত প্রাণবন্ত, ভদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত। তার এই করুণ অবস্থা পুরো এলাকাবাসীকে ব্যথিত করেছে। সকলেরই বিশ্বাস, সমাজের হৃদয়বান, দানশীল ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তবে হয়তো শান্ত আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণকে অকালে ঝরে যাওয়া থেকে বাঁচাতে আপনার সামান্য সহানুভূতি ও আর্থিক সহযোগিতাই হতে পারে শান্তর নতুন জীবনের আশার আলো।

শান্তকে চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে সরাসরি তার নিজের অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে যোগাযোগ ও সাহায্য পাঠানো যাবে: হিসাব নাম: শান্ত চন্দ্র শীল, হিসাব নম্বর: ০৫০০১২৮০০০০০৪৫৮, ব্যাংক: মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড, শাখা: বরিশাল শাখা। বিকাশ (পারসোনাল): ০১৯৪৬২১৩৬৪০