‘এই সময়’কে একান্ত সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ নিতেই আমার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ নিতেই তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন তিনি।

ফাঁসির আদেশের বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা জানান, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) গঠন করা হয়েছিল। অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার বেআইনিভাবে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আমাকে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে, সেটি কোনও বিচার নয়, এটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪–এর জুলাই-আগস্টে যে আন্দোলন হয়েছিল সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। কোটা পরিবর্তনের দাবির আড়ালে এটি ছিল একটি সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলন, যাতে দেশি ও বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জড়িত ছিল।’

শেখ হাসিনা আরও জানান, অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতা দখল করা (মুহাম্মদ) ইউনূস নিজেই এই আন্দোলনকে মেটিকুলাসলি ডিজ়াইনড বলে উল্লেখ করেছেন। এই ষড়যন্ত্রকে সফল করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরাই হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বলেছে, আন্দোলন সফল করার জন্য তারা পুলিশ হত্যা করেছে, মেট্রোরেলে আগুন দিয়েছে। আন্দোলন সফল না হলে সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনার কথাও তারা স্বীকার করেছে।’