শুধু পশু কোরবানি দেওয়া মানে ‘কোরবানি’ নয়; কোরবানি মানে মহান প্রভুর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশ। তাই চতুষ্পদ জন্তু কোরবানির মাধ্যমে কোরবানিদাতাকে মনের পশুত্বকেও বর্জন করতে হবে। সারা বছর যারা মানুষের প্রতি বুনো আচরণ করে, তারা যদি শতকোটি টাকারও কোরবানি করে তা কোনো কাজে আসবে না। অর্থাত্ দুর্নীতি করে, সুদ-ঘুষ খেয়ে, মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করে হাতিয়ে নেওয়া টাকায় ক্রয় করা পশু কোরবানি করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। কেননা, হালাল উপার্জনকারী সামর্থ্যবান নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কোরবানির হুকুম দিয়েছেন। হালাল তথা সত্ উপার্জনকারী ব্যক্তি কখনো অত্যাচারী, সুদখোর, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ হতে পারে না।
প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ, হত্যা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি প্রভৃতি কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয়, মানুষের মানবিকতা লোপ পাচ্ছে, মানবাত্মা মরে যাচ্ছে। তাই কোরবানি করে ধার্মিক সাজের আগে পশুত্ব বর্জন করতে হবে। অবশ্যই মনে রাখা উচিত—কোরবানির ঈদ শুধু আনন্দ উত্সবই নয়, বরং এটি ইসলামের অন্যতম একটি নিদর্শন, আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্যে বিশেষ ইবাদত এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম।
মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম
উত্তর পরুয়া পাড়া, চুন্নাপাড়া,
আনোয়ারা, চট্টগ্রাম