ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর

অবশেষে সারিয়াকান্দি খাদ্যগুদামে কৃষকের উপস্থিতিতে ধান কেনা শুরু

অবশেষে বগুড়ার সারিয়াকান্দি খাদ্যগুদামে কৃষকের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের আনা প্লাস্টিকের বস্তা পরিবর্তন করে সরকারি পাটের বস্তায় ধান ভর্তি করে গুদামজাত করা হচ্ছে।

গত ৮ জুন দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘১৪৪০ টাকা মণ ধানের দাম কৃষক পায় কি?’ শীর্ষক প্রতিবেদনের পর প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। পরে গত ১০ জুন থেকে নতুন এ পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গুদামকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট, ফড়িয়া, মজুদদার ও খাদ্য ব্যবসায়ীরা প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করত। পরে তাদের নামে কৃষক অ্যাপে নিবন্ধন ও ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে গুদাম থেকে খালি সরকারি বস্তা সংগ্রহ করে তাতে ধান ভরে ট্রাক ও ভটভটির মাধ্যমে গুদামে সরবরাহ করা হতো।

নিয়ম অনুযায়ী একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন ধান সরবরাহ করতে পারেন। চলতি সংগ্রহ মৌসুমে সারিয়াকান্দি খাদ্যগুদামে এক হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৪০ টাকা।

সারিয়াকান্দি খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি রশেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু সাম্রাট খান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী গুদামে কৃষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের নিজস্ব বস্তা পরিবর্তন করে সরকারি পাটের বস্তায় ধান ভর্তি করে গুদামজাত করা হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সঠিক নিয়মে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।