কান্না সহ্য করতে না পেরে দুই মাসের শিশুকে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলেন বাবা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১৩:০৮

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় কান্না করায় নিজের দুই মাস বয়সি সন্তানকে আছাড় দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মো. সুলতান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ জুনায়েদ। এই অমানবিক ঘটনার পর শিশুটির মা রুনা আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফুলগাজী ভূমি অফিস সংলগ্ন মেম্বার কলোনির ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সুলতান নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাত্রা ডাকঘর এলাকার কিতাব আলীর ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুলতানের সঙ্গে দুই বছর আগে একই উপজেলার নৌকা বাহাড়তলা গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে রুনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ভূমি অফিস সংলগ্ন মেম্বার কলোনিতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। দুই মাস আগে তাদের সংসারে জন্ম নেয় মোহাম্মদ জুনায়েদ। 

রুনা আক্তার অভিযোগ করেন, সুলতান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি ঘরের বাইরে ছিলেন। এ সময় শিশু জুনায়েদ তার বাবার কাছে ছিল। শিশুটি বারবার কান্না করছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুলতান শিশুটিকে মাটিতে আছড়ে মারেন।

তিনি জানান, ঘরে ফিরে তিনি দেখতে পান তার সন্তান মাটিতে ছটফট করছে এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছে। এ সময় শিশুর পাশে বসে তার বাবা গাঁজা সেবন করছিল এবং শিশুকে হাসপাতালে নিতে বাধা দিচ্ছিল।

পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সীরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মাথায় গুরুতর আঘাত দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

ফুলগাজী থানার ওসি এস এম মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। শিশুটির বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএসআর